সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

শিশুদের জন্মগত ত্রুটির কারণ ৭০ ভাগই অজানা

শিশুদের জন্মগত ত্রুটির কারণ ৭০ ভাগই অজানা

পৃথিবীতে যত নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করে এর প্রতি ৩৩ জনের মধ্যে একজন শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখে। শিশুর জন্মগত ত্রুটির দায় অনেক সময় পরিবার ও সমাজ শিশুটির বাবা অথবা বিশেষভাবে মায়ের উপর চাপিয়ে দেয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর মতে, শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ ৭০ শতাংশ অজানাই থাকে।

বিজ্ঞাপন

৩ মার্চ বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার দুপুর ১টায় রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত নিউ লাইফ হাসপাতালে 'জন্মগত ত্রুটি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সচেতনতা' শীর্ষক এক সেমিনারে এই কথা বলেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা।

স্মাইল ট্রেন, চাইল্ড হেল্থ এওয়ারনেস ফাউন্ডেশন ও নিউ লাইফ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। প্রথমে সেমিনার ও পরে জনসচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

নিউ লাইফ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: ইফতেখার হোসাইনের সভাপতিত্বে সেমিনারে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু সার্জারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নজরুল ইসলাম আকাশ জন্মগত ত্রুটি দেখলেই নিকটস্থ শিশু সার্জনের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানান। এসময় তিনি সরকারের কাছে জন্মগত ত্রুটি শিশুদের জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্মাইল ট্রেন নিউ লাইফ হাসপাতাল ক্লেফট প্রজেক্টের প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ডাঃ বিজয় কৃষ্ণ দাস।

এসময় তিনি বলেন, সারা বিশ্বে প্রতিদিন শতকরা ৩-৪ টি শিশু কোন না কোন জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। এছাড়াও প্রায় ৩ লক্ষ নবাগত শিশু এই কারণে মারা যাচ্ছে। শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ শতকরা ৭০ শতাংশ অজানা থাকলেও এর ফলে শিশুকে দেখতে অসুন্দর, চলাফেরায় অসুবিধা, খাওয়া দাওয়ায় অসুবিধা, লেখাপড়ায় অসুবিধা সামাজিক অবহেলা, অর্থনৈতিক সমস্যাসহ নানা সমস্যা হয়।

অপরিকল্পিত গর্ভধারণ, গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি রোগ, ফলিক এসিডসহ মায়ের বিভিন্ন ভিটামিনের অভাব, মাদক গ্রহণের খারাপ অভ্যাস, বাবা বা মায়ের বংশ জনিত সমস্যা, নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে প্রভৃতি কারণে জন্মগত ত্রুটি হতে পারে বলেও সেমিনারে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ, গর্ভাবস্থায় মাছ-মাংস কাটা, কারো অভিশাপ ইত্যাদি কোন কিছুই জন্মগত ত্রুটির জন্য দায়ি নয়। আমাদের সচেতনতাই জন্মগত ত্রুটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করতে পারে। আর যদি এধরনের শিশু জন্মই নেয় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা নিলে শিশু স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন স্মাইল ট্রেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এবিএম মোবাশ্বের হোসেন, নিউ লাইফ হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা মাহাদী হাসান, হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি সবুজ আলী প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন