ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডকে (তুরাগ) ঢাকা-১৮ আসন থেকে পৃথক করে ঢাকা-১৬ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তুরাগবাসী।
শুক্রবার ‘সচেতন তুরাগবাসী’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় স্থানীয় জনগণ। এসময় তুরাগ উত্তরার অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তুরাগবাসী ঢাকা-১৮ আসনেই থাকতে চান।
ঢাকা-১৮ আসনে থাকলেই তুরাগের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষিত থাকবে জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন—উত্তরার সঙ্গে ঐতিহাসিক ঐক্য রয়েছে তুরাগের। তুরাগবাসীর দাবি ও সমস্যা জাতীয়ভাবে প্রতিফলিত হবে এই আসনে থাকলেই। তাদের দাবি না মেনে ঢাকা-১৬ আসনে অন্তর্ভুক্ত বাস্তবায়ন করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তুরাগবাসী।
এর আগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় তুরাগের দিয়াবাড়িতে ‘সচেতন তুরাগবাসী’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্থানীয়রা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।
তিনি বলেন—তুরাগ থানার ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় লক্ষাধিক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-১৮ আসনের সঙ্গে যুক্ত। জমিজমা, নাগরিক সেবা, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ সবকিছুই ঢাকা-১৮ আসনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে । অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলকে মিরপুর-পল্লবী নিয়ে তৈরি ঢাকা-১৬ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আবু বকর সিদ্দিক বলেন—ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও তুরাগ উত্তরার সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবেই জড়িত। কিন্তু তুরাগকে আলাদা করে ঢাকা-১৬ আসনে ঠেলে দিলে অঞ্চলটির রাজনৈতিক অধিকার খর্ব হবে এবং উন্নয়ন বঞ্চনা বাড়বে।
আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন—ঢাকা-১৬ মূলত মিরপুর-পল্লবীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। সেখানে তুরাগ থাকবে প্রান্তিক অবস্থানে। উন্নয়ন, বাজেট ও অবকাঠামো বরাদ্দে তুরাগ অবহেলিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বও হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা-১৮ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সুরুজ্জামান, ৫৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম, তুরাগ মধ্য থানা জামায়াতের আমির গাজী মনির হোসাইন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মুজিবুর রহমান, কামরুল হাসান, মুহিবুল্লাহ প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

