গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
মঙ্গলবার সাভার উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। তাই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদা খানম বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ অপপ্রচার চালালে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে নিয়োজিত করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জরুরি আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; তাঁরা কাজে ফিরতে চান।
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। যেসব পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে, সেসব কারখানায় শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবেই কাজে যোগ দিচ্ছেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে রয়েছেন।
আন্দোলনে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হেলমেট পরে কিংবা বিভিন্ন ছদ্মবেশে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। প্রকৃত শ্রমিকেরা আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; বরং কাজ করতে চান। কারণ, তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা মজুরির ওপরই নির্ভরশীল।
শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার নীতিগতভাবে পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের হঠকারিতা বা নাশকতা বরদাশত করা হবে না।
এদিকে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনগণের সচেতনতার কারণে তারা কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটেছে। কাজেই ষড়যন্ত্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে না। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পথ চলছে। শ্রমিকেরা যে দাবি জানিয়েছিলেন, তা পূরণে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং একটি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


