রাজধানীর পল্লবীতে সন্ত্রাসী রাকিবুল হাসান সানি ওরফে পেপার সানিকে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছে তার পরিবার। গত মঙ্গলবার তার মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে স্থানীয় সন্ত্রাসী রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল ও বোমা কাল্লুসহ পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন স্বপন, জিন্দা ও টান আকাশ। তারা সবাই মোড়াপাড়া ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। তারা মাদক কারবার নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরেই সানিকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণা।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সানি অটোরিকশা চালক ছিলেন। ল্যাংড়া রুবেলসহ অন্যরা আড্ডা দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ও গামছা দিয়ে বেঁধে জবাই করে হত্যা করেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। খুনের পর নিহতের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ঘাতকরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর ১১ নম্বরের ‘বি’ ব্লকের ৩ নম্বর লাইনের মিল্লাত ক্যাম্পসংলগ্ন ডায়মন্ড স্কুলের সামনে থেকে দুই হাতে হ্যান্ডক্যাপ পরানো অবস্থায় পেপার সানির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মোড়াপাড়া ক্যাম্প থেকে সাদা একটি মাইক্রোবাসে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার পরে সকালে রাস্তায় লাশ ফেলে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সানির বিরুদ্ধে পল্লবী থানা এবং মিরপুরের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু পল্লবী থানায় মাদকসহ ৫টি মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার। গত বছর ১৬ মার্চ এলাকায় মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাব্বি গ্রুপের হামলায় পেপার সানি গ্রুপের ফয়সাল নিহত হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে আলোচনা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতে সানিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহরণকারীরাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ওই গাড়িতে আগে থেকেই চিহ্নিত মাদক কারবারি ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি ল্যাংড়া রুবেলসহ তার সহযোগীরা ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
পেপার সানির স্বজনরা জানান, স্থানীয় বিহারি ক্যাম্পের কয়েকজনের সঙ্গে মাদক কারবার নিয়ে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল সানির। এর আগেও কয়েকবার তার ওপর হামলা হয়।
পল্লবী থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, সানিকে হত্যার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কিছু নাম পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামিদের যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

