পূর্বশত্রুতার জেরে জিগাতলায় শিক্ষার্থী আলভি হত্যা, রহস্য উদঘাটন

পূর্বশত্রুতার জেরে জিগাতলায় শিক্ষার্থী আলভি হত্যা, রহস্য উদঘাটন

রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির হাজারীবাগ থানা পুলিশ।

ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. রায়হান, মো. হাবিবুর রহমান মুন্না, সমতি পাল ও কাউসার। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে রমনার ডিসি মাসুদ আলম জানান, নিহত সামিউর রহমান খান আলভী হাজারীবাগ থানার ৪২/জি, মনেশ্বর রোডে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

গত ১৬ মে সামিউর তার তিন বন্ধু মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. জাকারিয়া এবং মো. ইসমাঈল হোসেনের সঙ্গে ধানমন্ডি লেক পাড়ের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন। এ সময় গ্রেপ্তরকৃতরাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদেরকে কৌশলে হাজারীবাগ থানাধীন জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ২১/১ বাসার সামনে নিয়ে গিয়ে গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তারা সামিউর ও তার বন্ধুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামিউরকে একই তারিখ রাত ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। সামিউলের তিন বন্ধু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মো. সামিউল রহমান খান আলভীর বাবা মো. মশিউর রহমান খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

থানা সূত্রে জানায়, মামলা দায়েরর পর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ, নিবিড় তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ মে বিকেল ৫ টার দিকে মো. রায়হানকে ও ১৯ মে বিকাল ৩টায় সমতি পালকে হাজারীবাগের মধুবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২১ মে রাত সাড়ে ১২টায় ধানমন্ডি লেক বাগানবাড়ি এলাকা থেকে মো. হাবিবুর রহমান মুন্না ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃরা সামিউর রহমান খান আলভীকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। ১৫ মে ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক গটার দিকে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বাগানবাড়ি লেক এ ভিকটিম ও তার বন্ধুদের সাথে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন