গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা

প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকার সফল

প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকার সফল

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কার্যক্রমকে সফল হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি দমন ও মব সংস্কৃতি ছাড়া সার্বিকভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার সফলতা দেখিয়েছে। বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের দুঃশাসনে থাকা একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে গঠনের জন্য যে কমিটমেন্ট দরকার সেই কমিটমেন্ট রাজনৈতিক দলগুলো দিতে পারেনি। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, কেউ অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি সাপোর্টিভ ছিল না। প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্র, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের চর্তুমুখী অপতৎপরতা এবং অধিকার আদায়ের নামে দুইশটির বেশি আন্দোলন চলমান থাকার পরেও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে সেটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

বিজ্ঞাপন

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইনস্টিটিউট ফর ইনোভেশন ইন পলিসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর মন্ত্রণালয় ভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম আলী রেজা।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিষয়ে খুব একটা বলতে চাইনা কারণ ড. ইউনুস স্বাভাবিক অবস্থায় দায়িত্ব নেননি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারকে অধিক সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, দুর্নীতি দমন ছিল সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে সরকার তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি। তবে তারা যে একটা বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আর্থিকভাবে একটি পর্যায়ে নিয়ে গেছে এটি তাদের বড় সফলতা। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কারের একটা বড় অংশ নিয়ে সকল রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত্য হয়নি। যা রেড সিগন্যাল। কারণ এতে সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এসময় তিনি জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের সুস্পষ্ট আইনী ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মূল মনোযোগ নির্বাচন। ফলে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক আলোচনা খুব একটা ফলপ্রসূ হবেনা। সরকারকে অবশ্যই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকতে হবে।’ তিনি সরকারের কিছু উপদেষ্টার কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন।

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন বলেন, আমি বলছি সরকার সফল। কারণ তারা ফ্যাসিবাদি আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েল সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার সব রাজনৈতিক দলকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে পেরেছেন এটা সরকারের সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ কমাতে পেরেছে এটা আরেকটি সাফল্য। সরকারকে বিচার কার্যক্রম ও সংস্কার কার্যক্রমগুলো চলমান রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে- এটাই প্রত্যাশা করি।

নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার বিতর্কিত কারিকুলাম বাতিল করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু শিক্ষা কমিশন না হওয়ায় শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের উচিত সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে এমন একটা সিস্টেম তৈরি করা যাতে কর্তৃত্ববাদ আর কখনো ফিরে না আসে। এজন্য রাজনৈতিক ও স্ট্র্যাটেজিকভাবে সংস্কারগুলো করতে হবে।

আমার দেশ-এর প্রধান প্রতিবেদক বাছির জামাল বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত না হলে ভালো মিডিয়া প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। আর জনভিত্তিক মিডিয়া না থাকলে সরকার একনায়ক হয়ে উঠতে পারে। এজন্য গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন এই অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এর মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশিনটি অন্যতম। স্বনামধন্য সাংবাদিকদের নেতৃত্বে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছেন এবং গণমাধ্যম কে একটি জনভিত্তিক গণমাধ্যম হিসাবে প্রতিষ্টার জন্য যা করা প্রয়োজন তা তাদের পেশাগত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আমরা আশা করবো তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে জান এবং জবানের কোনো নিশ্চয়তা ছিলো না। গত এক বছরে এই দেশের মানুষ অন্তত জান ও জবানের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা পেয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, ড. ইউনূস সরকারের প্রথম ছয় মাস সময় গেছে প্রতিবিপ্লব ঠেকাতে। এখন বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা চাই একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন। যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা পুনরায় শুরু হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন