বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও টেকসই দক্ষতার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
শনিবার রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) প্রফেসর ড. এম এইচ খান মিলনায়তনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউএসটি), মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়া (ইউএসআইএম) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএসআইএম-এর উপাচার্য অধ্যাপক দাতো' টি এস ড. শরিফুদিন বিন মো. শারানী বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মানবসম্পদসমৃদ্ধ দেশ। তবে এই জনসংখ্যাকে প্রকৃত সম্পদে পরিণত করতে হলে বিজ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বিত শিক্ষা প্রদান করতে হবে।
তিনি বলেন, কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট ও পেশাজীবী তৈরির মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।
সম্মেলনে অনলাইনে ‘জ্ঞান সমন্বয় এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (আইআইআইটি) প্রধান নির্বাহী ও হার্ভার্ডের গবেষক অধ্যাপক ড. ওমর হাসান কে কাসুলে সিনিয়র।
সাবেক আইইউটি ও এইউএসটি উপাচার্য এবং বিআইআইটির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফজলী ইলাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এইউএসটির এক্সটেনশন সার্ভিসেস সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরওয়ার মোর্শেদ এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিআইআইটির মহাপরিচালক অধ্যাপক আবদুল আজিজ।
উদ্বোধনী সেশনে সহ-আয়োজক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এইউএসটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী এবং ইউএসআইএম-এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দাতো' ড. নিক সালিদা সুহাইলা বিনতি নিক সালেহ।
বক্তারা উল্লেখ করেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, এআই এবং সাইবার নিরাপত্তার এই যুগে পুরো বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে হলে যুগের উপযোগী ব্যবহারিক শিক্ষা, নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন এবং বলিষ্ঠ শিক্ষাগত নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে।
আয়োজকেরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্তত ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও উপাচার্যরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে প্রায় ১০০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার 'ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন', তুরস্কের 'মারিফ মডেল' এবং ইন্দোনেশিয়ার 'মারদেকা কারিকুলাম'-এর মতো বৈশ্বিক শিক্ষা মডেল নিয়ে আলোচনা করা হবে।
উদ্বোধনী পর্বের পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), শিক্ষানীতি সংস্কার, খাদ্য উদ্ভাবন ও জ্ঞানতত্ত্ব বিষয়ক একাধিক একাডেমিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী সোমবার এ সম্মেলন শেষ হবে। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


