বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সড়ক নিরাপত্তা এখন শুধু পরিবহন খাতের বিষয় নয় মন্তব্য করে আলোচকরা বলেছেন, এটি জনস্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা, আইনের শাসন, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত একটি জরুরি উন্নয়ন ইস্যু। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, আহত হওয়া, পঙ্গুত্ব, পারিবারিক আর্থিক বিপর্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানোর ঘটনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে।
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ প্রশিক্ষণ কক্ষে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন তারা।
সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন (খসড়া) গণমাধ্যমের ভূমিকা ও অংশীদারিত্ব শিরোনামের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)।
আলোচকরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি ৩-এর টার্গেট ৩.৬-এ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে এসডিজি ১১-এর টার্গেট ১১.২-এ সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সহজপ্রাপ্য ও টেকসই পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে গণপরিবহন সম্প্রসারণ এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরো বলেন, পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, অবকাঠামো এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন এসব খাতকে একটি কার্যকর কাঠামোর আওতায় এনে দায়িত্ব, সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে।
প্রশিক্ষণে আলোচক ছিলেন ব্র্যাক রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম এবং বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান।
প্রশিক্ষণে প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার ২০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এতে সড়ক নিরাপত্তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ, সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন খসড়ার অগ্রগতি, আচরণগত ঝুঁকির কারণ, গণমাধ্যমের নীতি-অধিপরামর্শমূলক ভূমিকা এবং তথ্যভিত্তিক ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

