মাঠের ফুটবলে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না ব্রাজিলের। তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির জাদুকরি কাঠির ছোঁয়ায় নিজেদের একটু একটু করে গুছিয়ে নিচ্ছে সেলেসাওরা। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। হাতে সময় খুবই কম। এখন চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। রণকৌশল ঠিক করতে কোচরা দলে দিচ্ছেন শেষবারের মতো তুলির আঁচড়। মাঠের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত না হওয়ার প্রভাব পড়েছে ফিফা র্যাংকিয়েও। গত এপ্রিলে প্রকাশিত সবশেষ র্যাংকিংয়ে এক ধাপ নিচে নেমে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কিন্তু একটি জায়গায় ব্রাজিল এখনো অপ্রতিরোধ্য। লাতিন আমেরিকার দেশটিকে কেউ যেন হারাতেই পারছে না। ফুটবল দুনিয়ার লিগ টুর্নামেন্টগুলোতে এখনো খেলোয়াড় রপ্তানিতে সবার ওপরে ব্রাজিল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরি’ বিশ্বজুড়ে ১৩৫টি পেশাদার লিগে সমীক্ষা চালিয়ে এ খবর জানিয়েছে। যেখানে ব্রাজিলের রাজত্ব অনেক দিনের।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লিগ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার খেলছেন এক হাজার ৪৫৫ জন। গত বছরও খেলোয়াড় রপ্তানিতে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল। আগের বছর বিশ্বের বিভিন্ন লিগ আসরে খেলেছেন ব্রাজিলের অন্তত এক হাজার ৪১৮ ফুটবলার। সে তুলনায় এ বছর ব্রাজিলের খেলোয়াড় রপ্তানি আরো বেড়েছে।
তালিকার চূড়ায় থাকা ব্রাজিল থেকে খুব দ্রুত ব্যবধান কমাচ্ছে ফ্রান্স। ইউরোপের দেশটি এখন ফুটবলার রপ্তানিতে বেশ এগিয়ে। বিদেশি লিগে খেলা ফরাসি ফুটবলার এখন এক হাজার ২৭৫ জন। গত পাঁচ বছরে ফরাসি খেলোয়াড় রপ্তানির হার বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এ তালিকায় তিনে রয়েছে ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যাদের সব মিলিয়ে এক হাজার ১৬ খেলোয়াড় বিদেশের লিগে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। গত বছরও এ তিন দলই ফুটবলার রপ্তানি তালিকার শীর্ষে ছিল। তবে এ তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফুটবলার রপ্তানি বেড়েছে এবার ফ্রান্সের। ফরাসি ফুটবলার রপ্তানির সংখ্যা এ বছর বেড়েছে ৮৬ জন।
বিদেশে ফুটবলার পাঠানোর ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে পর্তুগাল, স্পেন ও নাইজেরিয়াও। গত কয়েক বছরে পর্তুগিজ ফুটবলার রপ্তানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে স্পেন ও নাইজেরিয়ায় ফুটবলার রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০ শতাংশ করে।
বিশ্বফুটবলের বাজার এখন উন্মুক্ত। ২০২১ সাল থেকে ফুটবলার রপ্তানি করে আসছেÑএমন শীর্ষ ৫০ দেশের মধ্যে মাত্র ৯ দেশের ফুটবলার বিদেশে যাওয়ার হার কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমেছে সার্বিয়ার। ২০২১ সালের তুলনায় তাদের ফুটবলার রপ্তানি কমেছে ১২ শতাংশ।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা সাধারণত পর্তুগালের লিগেই খেলতে যায় বেশি। এর নেপথ্যের কারণ হয়তো ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিল। তবে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের চাহিদা বেড়েছে বিশ্বফুটবল বাজারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

