ফেসবুকে অনিবন্ধিত নিউজ পেজের দৌরাত্ম্য, বাড়ছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ

অথনৈতিক রিপোর্টার

ফেসবুকে অনিবন্ধিত নিউজ পেজের দৌরাত্ম্য, বাড়ছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ

ফেসবুক এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেকের কাছে এটি প্রধান তথ্যসূত্রে পরিণত হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনিবন্ধিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক নিউজ পেজের সংখ্যা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নাম বা জনপ্রিয় শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে অসংখ্য ভুয়া বা অপ্রাতিষ্ঠানিক নিউজ পেজ তৈরি করা হচ্ছে। এসব পেজ থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মেটা প্লাটফর্মের মালিকানাধীন ফেসবুক পরিচালিত এসব পেজকে ঘিরে অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ বা ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার জেরে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরে সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া বা সংবাদ বন্ধ করার শর্তে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি নেয়ামুল হাসান নিয়াজ নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা থেকে একটি চক্র বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় বেনামি অভিযোগ দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। পরে সেই অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও সেটিকে ঘিরে মানহানিকর সংবাদ প্রচারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।

তার ভাষ্য, “এই ধরনের সংবাদ বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।”

অন্যদিকে অভিযুক্ত নেয়ামুল হাসান নিয়াজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বক্তব্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তার দাবি, এখানে হুমকি দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাচাইহীন তথ্য ও ভুয়া নিউজ পেজের বিস্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মত তাদের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন