শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান

বর্তমান সরকারকে যুবসমাজকে কেবল চাকরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আধুনিক উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে তরুণদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুবসমাজকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদের মেধা ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তারা সফল উদ্যোক্তা হতে পারে।

শুধু চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে তরুণদের নিজেদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চিন্তা ও বাস্তবমুখী কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মনোজগতে উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিশালী আকাঙ্ক্ষা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করা। এই জব ফেয়ার তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব পথ দেখাবে।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্যবাহী সমাজসেবী ও সফল উদ্যোক্তাদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা, জহুরুল ইসলাম ও স্যামসন এইচ চৌধুরীর মতো সফল উদ্যোক্তা ও মানবিক গুণসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরবর্তী এবং জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুরের মতো জেলাগুলোর সংযোগস্থলে অবস্থিত ভৌগোলিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে তরুণ সমাজের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সবচেয়ে জরুরি বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

দিনব্যাপী এই জব ফেয়ারকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেলায় দেশি-বিদেশি শতাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলোতে চাকরিপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এতে ২৫ হাজার নিবন্ধিত প্রার্থীসহ ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী চাকরি লাভ করেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমা পড়া লক্ষাধিক জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই তাদের আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন