বিমানবাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী হত্যা মামলার তদন্তে নেমে এক তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ তাকে ওই নারীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থা ওই নারীর ছবি পেলেও তদন্তের স্বার্থে নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে আসেন তাহসিফ। এ সময় তার সঙ্গে ২৪-২৫ বছর বয়সি এক তরুণী ছিলেন। তারা ওই বার থেকে তিন বোতল মদ কিনে সেবন করেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তির দিকে যান। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে টহল পুলিশের একটি দল মাদক সেবনের অভিযোগে তাদের ধাওয়া করে থাকতে পারে। ওই সময় হয়তো দৌড়াতে গিয়ে তিনি নদীতে পড়ে যান। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
বারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারী গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরিহিত ছিলেন এবং বারে প্রবেশের সময় তার হাতে একটি সাদা রঙের পলিথিন ছিল। এ সময় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও তার সঙ্গে ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই নারীকে আটক করা গেলে এ ঘটনার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যাবে।
এদিকে তাহসিফ সাউরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, বেলা ৩টার দিকে এ মামলায় দীপের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসার তথ্য জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবার করা হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে নৌ-পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

