রাজধানীর লালবাগ থানার আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন তার এই জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন শিরীন শারমিনের আইনজীবী এবিএম হামিদুল মিসবাহ জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী তার জামিন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। পিপি ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আমরা আদালতে তার জামিনের বিরোধিতা করি কারন জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে।তবে আদালত তার শারিরীক অসুস্থতা বিবচেনায় এ মামলার পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) লালবাগ ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিনের আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত থেকে এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।এর আগের দিন সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ এর ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের (ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ) পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। এতে মো. আশরাফুল (ওরফে ফাহিম) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।ওই ঘটনায় ২৫ সালের ২৫ মে ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ, শিরীন শারমিনসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সিআর মামলা করেন।
মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন (কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে) এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
কারাগারে রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোন ডিবির উপ-পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন বলেন, আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাকে জেল হাজতে আটকে রাখা প্রয়োজন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

