সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তলবকৃতরা হলেন- সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, মেয়ে আয়েশা আজিজ, পরিবারের সদস্য ফরিদ খান, সানাদিনা খান, সালমান খান, জাফর উম্মিদ খান, লতিফ খান, ফয়সাল করিম খান, ফারহান করিম, ফাদিয়াহ খান, ফারহানা খান এবং আজহারুল হক। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তলবকৃত চিঠিতে আগামী ২৯ জানুয়ারি এবং ১, ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আক্তারুল ইসলাম।
দুদক জানায়, পাচারের অভিযোগের মধ্যে আজিজ খানের বিরুদ্ধে ২২৬ কোটি টাকা, আঞ্জুমান আজিজ খানের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি, ফরিদ খানের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি, আয়েশা আজিজের বিরুদ্ধে ২১৯ কোটি, সানাদিনা খানের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি, সালমান খানের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি, জাফর উম্মিদ খানের বিরুদ্ধে ৫২ কোটি, লতিফ খানের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি, ফয়সাল করিম খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি, ফারহান করিমের ৩ কোটি, ফাদিয়াহ খানের ৩৭ কোটি, ফারহানা খানের ২৫ কোটি এবং আজহারুল হকের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের যৌথ একটি দল অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছে।
সূত্র জানায়, এর আগে ১৪ ডিসেম্বর সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ে পৃথক পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সূত্র জানায়, আজিজ খানের নামে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ১০৯ টাকা, আঞ্জুমান আজিজ খানের নামে প্রায় ৯২ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা এবং কন্যা আয়েশা আজিজ খানের নামে প্রায় ২৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬৪ টাকার অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। আয়কর নথিতে প্রদর্শিত সম্পদের মূল্য প্রকৃত সম্পদের তুলনায় কম এবং তার আয়ের সঙ্গে এ সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

