উগ্রবাদ ও নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১২ যুবক তিন দিনের রিমান্ড

উগ্রবাদ ও নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১২ যুবক তিন দিনের রিমান্ড

রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও-এ গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন, মোঃ শিহাব উদ্দিন, মারুফ আহমেদ, সাইফুর রহমান খান, মো. কামরুল ইসলাম, মো. সাইফ হোসেন, আফিজ আহমেদ, মো. মুহাইমিনুল হক, লাকি চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, সাকির আহমেদ ও জুনায়েদ আহমেদ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছেন এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছেন। তাদের সঙ্গে আরো কারা জড়িত, সে তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডে নেয়ার ওই আদেশ দেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় আসামিদের ব্যবহৃত ডিভাইস, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও ইনস্টাগ্রামের বার্তা, অডিও-ভিডিও যাচাই এবং উগ্রবাদী কাজের আর্থিক যোগানদাতা ও অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় শনাক্ত করতে আসামিদের গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেলে রমনা পার্ক ও আশপাশের এলাকায় উগ্রবাদী মতাদর্শের অনুসারী একদল যুবক জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে সমবেত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসি এবং স্থানীয় থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষায় জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সকলেই হোয়াটসঅ্যাপ- এর ‘মিথ্রাস’ নামক একটি গোপন গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী বার্তা আদান-প্রদান, চরমপন্থি মতাদর্শ ছড়ানো এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করত।

এদিকে আদালতে উপস্থাপিত নথিতে দেখা যায়, মূল আসামি মো. শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ২ নম্বর আসামি মারুফ আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি দণ্ডবিধির মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন