রাজধানীর কদমতলী থানাধীন এলাকায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ওই শিশুটির সৎ মামা মো. সোহান আলম তপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামির তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক। একই সাথে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে শিশুটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার আগে আসামি তপুকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি সোহান আলম বাদীর পূর্ব পরিচিত। সেই পরিচয় ধরে ভিকটিমের পরিবার তাদের আরেক সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকার কদমতলী থানাধীন এলাকায় আসামিদের বাসায় ওঠেন। ২০২৩ সালের ৮ মে রাত ৮টার দিকে ভিকটিম শিশু কন্যাকে খাওয়া-দাওয়া করানোর জন্য কদমতলী থানাধীন মাতুয়াইল মা ও শিশু ইনস্টিটিউট সুইপার গলির ৩য় শ্রেণির টিনশেডের স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাত ২টার দিকে অভিযুক্ত সোহান আলম তপু ভিকটিমকে হাসপাতালে দিয়ে যায়। সকাল বেলা ভিকটিম তার মাকে চোখে ব্যথা পেয়েছে বলে জানায়। কখন, কোথায়, কিভাবে ব্যথা পেয়েছে বলে তার মা জানতে চাইলে ভিকটিম জানায়, অভিযুক্ত সোহান আলম তপুর ‘মজার জিনিস’ খাওয়ানোর কথা বলে ফুসলিয়ে তার ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর আসামি এ ঘটনার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের নিকটতম আত্মীয় (চাচাতো মামা) সাজ্জাত হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর একই বছরের ১৪ মে আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে আসামি কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ, ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মো. মহসীন চৌধুরী আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় বিচারকালে ৯ জন সাক্ষী ও ৪ জনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

