আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪ টি চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
তালেবুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার রিয়াদের বাসা থেকে চারটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। চেকগুলোতে উল্লেখ করা টাকার পরিমাণ দুই কোটি ২৫ লাখ। বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের অন্যতম সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সেলের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের নাখালপাড়ার বাসায় সোমবার রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ অভিযানে চারটি চেক ও প্রায় ২০ লাখ টাকার এফডিআরের নথি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে রোববার বিকেলে রিয়াদসহ অন্য আসামিদের আদালতে নেয়া হয়। চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান তাদের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন পাঁচ যুবক। তিনি পলাতক থাকায় তার স্বামীর কাছে এ চাঁদা দাবি করা হয়। কয়েকদিন আগে তারা ওই বাসায় গিয়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে আসে। এরপর আবার যান স্বর্ণালংকার আনতে। সেসময় বাড়ির লোকজন পুলিশকে খবর দিলে রিয়াদসহ সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুলাই আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বাদীর গুলশান-২ এর বাসায় হুমকি-ধামকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার চাঁদা দাবি করেন। অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে আওয়ামী লীগের ও স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দেন। ভয়ে তাদের ১০ লাখ টাকা দেন। পরে ১৯ জুলাই পুনরায় বাকি ৪০ লাখ টাকা জন্য আসেন। সেদিনও হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর গত ২৬ জুলাই চাঁদা নিতে এলে গুলশান থানা পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

