জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত ১৫ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই দিন নির্ধারণ করে। ওই দিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষ দাবি করেন, জয় ও পলকের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করে মামলাটি থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।
গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন। সেদিন তিনি ট্রাইব্যুনালে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়। এছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহিদ হন। মামলার তৃতীয় অভিযোগে উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিন গ্রেপ্তার অবস্থায় পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে, ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আদালত আমলে নেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

