ট্রাইব্যুনালে গুলিবিদ্ধ রাতুলের জবানবন্দি

আমার হাঁটুতে গুলি লেগে হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়

আমার হাঁটুতে গুলি লেগে হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়
ফাইল ছবি

জুলাই বিপ্লবে রামপুরায় কর্মসূচিতে অংশ নিলে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে হাঁটুর হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তেজগাঁও কলেজের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান। তিনি বলেন, একটি গুলি আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে পেছন দিক দিয়ে ঢুকে সামনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই ক্ষতস্থানে দেড় ইঞ্চির মতো হাড় ক্ষয় হয়।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন তিনি। অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে রাতুল হাসান বলেন, আমার বর্তমান বয়স ২৩ বছর। আমি তেজগাঁও কলেজে মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমি শুরু থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগদান করি। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম নিহত হওয়ার পর এবং ছাত্রলীগ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলার পর আরও দৃঢ়তার সঙ্গে যোগদান করি। ১৮ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আমি ও আমার বন্ধু রিফাত ইসলামসহ আরও কয়েকজন মিলে রামপুরায় আন্দোলনে যোগদান করি। ওই দিন রিফাত পুলিশের গুলিতে আহত হয়।

তিনি বলেন, ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর রামপুরা মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সামনে আমরা আবার আন্দোলনে যোগদান করি। তখন আমাদের সামনে বিজিবি এবং পুলিশ অবস্থান করছিল। কোনো রকম সতর্কবার্তা ছাড়াই তারা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। তখন আমি বেটার লাইফ হাসপাতালের দিকে দৌড় দিই। তখন একটি গুলি আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে পেছন দিক দিয়ে ঢুকে সামনের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। ওই ক্ষতস্থানে আমার দেড় ইঞ্চির মতো হাড় ক্ষয় হয় এবং ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এরপর আমার ভাগ্নে সুলাইমান ও অপর আন্দোলনকারীদের সহায়তা নিয়ে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। পরে সিনা হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহণ করি।

রাতুল বলেন, পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে জানতে পারি, ঘটনার দিন বিজিবির কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাশেদ, রামপুরা থানার ওসি মশিউর রহমান এবং ওই এলাকার পুলিশের এডিসি গুলি করেন। আরও জানতে পারি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই গুলি করার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, ১৮ জুলাই আমার বন্ধু রিফাত যখন গুলিবিদ্ধ হয়, তখন হেলিকপ্টার থেকেও প্রচুর গুলি করা হয়েছিল। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জানতে পারি, ১৯ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই অনেক আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সমুদ্র, রমজান, শাওন, বাবু মোল্লা রয়েছেন।

আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হইনি এবং কষ্টে দিন পার করছি। যারা গুলির নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা গুলি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন