জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার দুই আসামি হলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১১ মার্চ আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী তাদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এনেছে, তার পক্ষে যথাযথ প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণও প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেনি। এজন্য তিনি আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানান। এরপর প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ দাখিল করেছি। বিচারের সময় আমরা অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হব। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য ৩০ এপ্রিল দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, গত ২ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নানা উসকানি দেন কামরুল ও মেনন। তারা সরকারের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায় আনা হয়েছে। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন কামরুল। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় তারা কারাগারে রয়েছেন।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ঘটনায় ১৮৫৫ মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী