অবশেষে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির সেই অধ্যাপক

অবশেষে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির সেই অধ্যাপক

দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান হলো। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস।

রোববার পেটেন্ট অনুমোদনের মাধ্যমে গবেষণাটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলেছে। ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হলেও দীর্ঘ সময় তা অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

বিজ্ঞাপন

ড. জাভেদ হোসেন খান জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

পেটেন্ট অনুমোদনের পর জাভেদ খান বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণই তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য। দেশের মাটি, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই তারা গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বাড়বে, সারের অপচয় কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত সারের বিরূপ প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘ দিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট পাওয়া অত্যন্ত গৌরবের। এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত চাষাবাদে কম সার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে গাছের সমান পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্রের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা পালন করতে পারে।

ন্যানোটেকনোলজি বিকাশে জাভেদ খান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।

পেটেন্ট পাওয়ার পরের কাজ কী হতে পারে জানতে চাইলে জাভেদ খান বলেন, দেশীয় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ পেটেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন উদ্ভাবনটির কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, ভারতে ন্যানো ইউরিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে চাষাবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও একই বিষয়ে গবেষণা করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন