ডাকসুর ‘বহুমাত্রিক’ ও ‘হাতেখড়ি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ডাকসুর ‘বহুমাত্রিক’ ও ‘হাতেখড়ি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত দুটি স্মারক সাহিত্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এর একটি অবাঙালি মাতৃভাষার সাহিত্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বহুমাত্রিক’, অন্যটি ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত ‘হাতেখড়ি’।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাত ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গ্রন্থ দুটি সম্পাদনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। এ ছাড়া জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ড. মোশাররফ হোসেন মুন্নাসহ হল সংসদ ও ডাকসুর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ডাকসু যে সবার জন্য কাজ করে, ‘বহুমাত্রিক’ তার একটি দৃষ্টান্ত। চাকমা, মারমা, ম্রোসহ চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসা ভাষাগুলো সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।

এস এম ফরহাদ বলেন, অবাঙালি মাতৃভাষার স্মারকগ্রন্থটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বহুমাত্রিক’। একইভাবে ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারক গ্রন্থ ‘হাতেখড়ি’ও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লেখা নিয়ে বাছাই করে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের লেখক হয়ে ওঠার প্রেরণা দেবে।

তিনি বলেন, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ডাকসু থেকে ২৭টি গ্রন্থ সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন। এসব সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।

গ্রন্থ দুটির সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শুরু থেকেই তারা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর ভাষায় সাহিত্যচর্চার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুসাদ্দিক আলী বলেন, দেশের কিছু ভাষা চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি নিজে কথা বলে দেখেছেন, এসব জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থীই নিজের মাতৃভাষার লিখিত রূপ জানেন না। তাই চাকমা, ম্রো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ভাষার ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা নিয়ে ‘বহুমাত্রিক’ প্রকাশ করা হয়েছে।

‘হাতেখড়ি’ গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে সাত শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে লেখালেখির একটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল। এক মাস ধরে তাদের লেখালেখির বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা থেকে শিক্ষার্থীরা লেখা জমা দেন। পরে সেসব লেখা বাছাই করে ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারকগ্রন্থ ২০২৫ ‘হাতেখড়ি’ প্রকাশ করা হয়েছে।

মুসাদ্দিক আলী বলেন, নবীন লেখকদের গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বইটির নাম ‘হাতেখড়ি’ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা করেন, নবীন লেখকেরা পাঠকের উৎসাহ পাবেন এবং একদিন পরিণত লেখকে পরিণত হবেন। সেদিনই এই উদ্যোগ সার্থক হবে।

গ্রন্থ দুটির সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন আসিফ আব্দুল্লাহ, ফাতিমা তাসনিম জুমা, মাহিয়া বিনতে মামুন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসূরী, নুসরাত জাহান, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদীন।

‘হাতেখড়ি’ স্মারকগ্রন্থের ব্যবস্থাপনা ও কর্মশালার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সাহিত্যকেন্দ্রের সভাপতি কবি আফসার নিজাম এবং নটনাট্যের সভাপতি ও নাট্য নির্দেশক হুসনে মোবারক।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...