ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুধবারসন্ধ্যায় বিরোধী মতাদর্শের দুই ছাত্রসংগঠন- ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল- একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করলেও কোনো রকম সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল এবং পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান করেও সংঘর্ষ না হওয়ায় রাজনৈতিক সহাবস্থানের বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে এটিকে দেখছেন শিক্ষার্থীরা ।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাবি ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টিএসসির দিকে অগ্রসর হন। পরে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য হয়ে উপাচার্য চত্বরে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। ঠিক একই সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা টিএসসি থেকে মশাল মিছিল শুরু করে রোকেয়া হল এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এক পর্যায়ে উভয় মিছিলই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে এসে পাশাপাশি অবস্থান করে। তবে কোনো উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ঢাবির মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এ ধরনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড়-
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির এই দৃষ্টান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত জাকারিয়া লিখেন, আজকে ঢাবিতে রাস্তার একপাশে মিছিল করেছে ছাত্রশিবির, আরেকপাশে ছাত্রদল। মাঝখানে ছিল রোড ডিভাইডার। আমি চাই এই রোড ডিভাইডারটাই রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রতীক হোক।
তিনি আরও লিখেন, ঝগড়া থাকুক, বাকবিতণ্ডা চলুক- কিন্তু সহিংসতা না হোক। রাজনীতি হোক যুক্তির, দাঙ্গার নয়।
নাফিসা ইসলাম সাকাফী নামের আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, এমনকি বাগছাসও একসাথে ক্যাম্পাসে মিছিল করলো। কোনো সংঘাত হয়নি। এটাই আমরা চাই- রাজনৈতিক সহাবস্থান।
দুই ছাত্রসংগঠনের স্লোগানে তাদের আদর্শগত বিরোধিতা স্পষ্ট ছিল। ছাত্রশিবির যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে 'নারায়ে তাকবির' ও 'ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন' জাতীয় স্লোগান তোলে, সেখানে ছাত্রদল স্লোগান দেয় ‘জামাত-শিবির রাজাকার, বাংলা ছাড়’ এবং ‘আমার ভাই মরলো কেন, জামাতিরা জবাব দে’।
বিশেষ করে কক্সবাজারে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রদলের বক্তব্য ছিল, হামলার পেছনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই তারা শিবিরের দিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেয়, কিন্তু শিবির সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করেই তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্নায়ুযুদ্ধের আবহ বজায় থাকলেও উভয় পক্ষ যে সহিংসতায় যায়নি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনীতি কখনোই একমুখী নয়। আজকের ঘটনাটি প্রমাণ করে, মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তার প্রকাশ শান্তিপূর্ণ হতে পারে। ঢাবি রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য বহুবার আলোচনায় এসেছে। আজকের ঘটনাটি তার উল্টো এক উদাহরণ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

