‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাকে অনেক পত্রিকা, মিডিয়া পোষ্য কোটা বলে প্রচার করছেন। এটা কোনোভাবেই পোষ্য কোটা নয়।’ এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক-কর্মকর্তারা। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ডিন’স কমপ্লেক্সের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সম্মেলনে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে যে আসনসংখ্যা আছে তার ৫% শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানেরা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সে আসনে ভর্তির সুযোগ পেতো। যেটা পোষ্য কোটা নামে পরিচিত ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা বাতিল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিডেন একটা পলিসি, সেখানে আমাদের মতো ৫% বা এমন কিছু উল্লেখ নাই। তাদের সন্তানেরা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই ভর্তির সুযোগ পাই। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুযোগ সুবিধা গুলো আছে।
তিনি বলেন, আমরা কোটার দাবি রাখিনা অর্থাৎ ৫% এর কোনো বিষয় আমাদের নেই। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা যদি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাদের প্রয়োজন হয়তো ৫% কেনো ১% ও হবে না। টোটাল ২০ বা ৩০ জনের এই সুযোগের প্রয়োজন হতে পারে। সেটা হবে নির্ধারিত আসন সংখ্যার বাইরে। এটাকেই আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বলছি।
এসময় অফিসার সমিতি সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, পোষ্য কোটা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এক নয়। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা চাই পোষ্য কোটা না। আমাদের সন্তানরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই এখানে ভর্তি হোক এটা চাই। বাংলাদেশের সব জায়গায় প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দেওয়া হয়, রেলওয়েতে যারা চাকরি করে তাদের পরিবার অর্ধেক ভারায় যাতায়াত করে, বিমান বাহিনীতে যারা চাকরি তাদের জন্য হজের যাওয়া আসা ফ্রি।তাহলে আমরা কেনো বঞ্চিত হবো? আমরা কোটা বিরোধী ছিলাম, আছি, থাকবো।
এ সময় প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বহাল এবং বৈষম্য দূরীকরণসহ ৯দফা দাবি জানান তারা। তাদের দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের জন্য ব্যক্তিগত চেম্বার এবং গবেষণার বাজেট বৃদ্ধি, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কর্মরতদের সন্তানদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সুবিধা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজের পরিবেশ উন্নয়ন, ফ্যাসিবাদী, দুর্নীতিবাজ ও নিপীড়কদের দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা।
লিখিত বক্তব্যে এগ্রোনমি ও এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের গুম-খুন ও নির্যাতনের অবসান হয়। গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের প্রত্যাশা ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
উল্লেখ করা হয়, দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার ঘোষিত সুবিধা বহাল রয়েছে। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তা কার্যকর হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাইরে কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়। তাই এখানেও শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

