সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম

‘ফ্যাসিবাদী বয়ান’ বাজানো প্রার্থীদের লালকার্ড দেখাবে শিক্ষার্থীরা

‘ফ্যাসিবাদী বয়ান’ বাজানো প্রার্থীদের লালকার্ড দেখাবে শিক্ষার্থীরা

শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম প্রতিদ্বন্দ্বী ডাকসু নির্বাচনী প্রার্থীদের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, শিক্ষার্থীরা ‘ফ্যাসিবাদী বয়ান’ বাজানো প্রার্থীদের ভোটের দিন প্রত্যাখ্যান করবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করে বলেন, তারা শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ভিশন না দেখিয়ে পুরোনো রাজনৈতিক বুলি আওড়াচ্ছেন।

প্রার্থীদের উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা। অথচ আমরা দেখছি তারা ফ্যাসিস্ট, কালচারাল ফ্যাসিস্ট এবং বাকশাল যুগের বয়ান ভাঙা ক্যাসেটের মতো বাজাচ্ছেন,” তিনি বলেন। “৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা এই বয়ান বাজানোদের লালকার্ড দেখাবে।

জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকে তার প্যানেলের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, আমাদের সদস্যরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে, দক্ষতা প্রমাণ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছে। ৯ সেপ্টেম্বর আমরা ব্যালট বিপ্লব দেখব।

শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাই আমাদের প্রত্যাশা, তাদের আকাঙ্ক্ষাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।”

সাদিক কায়েম আরও জানান, তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনের অংশ হিসেবে সমালোচকরাও তাদের স্বপ্নের সমাজে অন্তর্ভুক্ত। “যারা আমাদের সমালোচনা করে, তারাও আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের স্বপ্নের অংশ,” তিনি উল্লেখ করেন।

তবে সাদিক কায়েম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তাদের প্রার্থীরা নিয়মিত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। “আমাদের প্রতিটি প্রার্থী তাদের ফেসবুক পোস্টে বাজে মন্তব্যের সম্মুখীন হচ্ছেন,” তিনি বলেন। “নারী প্রার্থীরা ক্রমাগত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, তাদের বিকৃত ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা কমিশনারদের আমাদের শিক্ষক হিসেবে সম্মান করি। কিন্তু তারা যদি কোনো গোষ্ঠীর প্রভাবে আসে বা বিশেষ সুবিধা দেয়, শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। আমরা আশা করি তারা নিরপেক্ষ আচরণ করবে এবং আমাদের অভিযোগের সঠিক বিচার করবে।”

আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন বাংলাদেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা, যেখানে প্রার্থীরা নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন