স্থবিরতায় জবি মিলনায়তনের আধুনিকায়ন, পাঁচ মাসে অগ্রগতি ২০ শতাংশ

স্থবিরতায় জবি মিলনায়তনের আধুনিকায়ন, পাঁচ মাসে অগ্রগতি ২০ শতাংশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে দীর্ঘ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ধীরগতির এই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে মিলনায়তন উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য টয়লেট নির্মাণে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এটি ছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুকূলে ‘সিটি করপোরেশনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের একটি প্রকল্প।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “কাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক ট্রেজারার স্যার এবং আমি সদস্য। কন্ট্রাক্টর ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। দুটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে দুই মাসেই এটি শেষ করা সম্ভব।”

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দোষ চাপানো হচ্ছে সিটি করপোরেশনের ওপর। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানায়, বিল অব কোয়ান্টিটির অনুমোদন, পেমেন্ট ছাড় ও নতুন ওয়ার্ক অর্ডার আটকে থাকায় তারা পর্যাপ্ত শ্রমিক দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। বর্তমানে মাত্র দুজন শ্রমিক দিয়ে সীমিত আকারে কাজ চলছে।

তারা আরও জানান, নতুন ওয়ার্ক অর্ডারটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক আমলার টেবিলে আটকে আছে। সেটি পাশ হলে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন তারা।

এদিকে মিলনায়তনের সংস্কার না হওয়ায় একাধিক বিভাগের প্রোগ্রাম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জবি ক্যারিয়ার ক্লাবসহ অনেক সংগঠনের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

জবি ফিন্যান্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, “মিলনায়তন ছাড়া অন্য কোনো ভালো ভেন্যু নেই। মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান করতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। অথচ দুই মাসেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, “দুই দিন আগে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল সিএসই বিভাগের কনফারেন্স রুমে। জায়গা ছিল ৬০-৭০ জনের, কিন্তু ১৫০ জনের বেশি উপস্থিত হন। অনেকে জায়গা না পেয়ে ফিরে যান। মিলনায়তন থাকলে এই সমস্যা হতো না।”

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, পরিকল্পনার ঘাটতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বই এই প্রকল্প স্থবিরতার মূল কারণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন