দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা প্রতি বছরই জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভূপ্রকৃতিগতভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় নিচু হওয়ায় আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ। এই সংকট উত্তরণে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষে আশাব্যঞ্জক সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামানিক। এ সময় সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামানিক বলেন, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি বোরো জাতের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি ধান চাষ করলে ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ফসল কাটা সম্ভব। এতে বন্যার আগে ধান ঘরে তোলার সুযোগ তৈরি হয়। ২০২০ সাল থেকে হাওর অঞ্চলে এই গবেষণা চালানো হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
হাওরের কৃষি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, অগ্রহায়ণে পানি নেমে গেলে জমি প্রস্তুত করা হয় এবং ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরুতে ধান রোপণ করা হয়। প্রচলিত জাতের ধান পেতে এপ্রিলের শেষ কিংবা মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ঠিক এই সময়েই হাওরে বন্যার প্রকোপ শুরু হয়। গত ৩৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে মে মাসে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এপ্রিলের শেষার্ধে প্রায় ৪২ শতাংশ ক্ষেত্রে আগাম বন্যা দেখা গেছে। ফলে এপ্রিলের মাঝামাঝির আগেই ধান কাটতে পারলে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অধ্যাপক ড. প্রামানিক বলেন, হাওর অঞ্চলে বহুল চাষকৃত ধানের জাত ব্রি ধান-৯২-এর জীবনকাল প্রায় ১৬০ দিন। ফলে এই জাতের ধান রোপণের পর পেকে কর্তন করতে বৈশাখের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ সময়ই আগাম বন্যা নেমে আসায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয় না। গবেষণায় স্বল্পমেয়াদি কয়েকটি জাত যেমন ব্রি ধান-৮৮, ব্রি ধান-১০১, ব্রি ধান-১১৩, ব্রি ধান-১০৫ ও ব্রি ধান-২৫ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এসব জাতের জীবনকাল গড়ে ১৪৫ দিনের মতো। একই সময়ে রোপণ করেও এসব জাত থেকে অন্তত দুই সপ্তাহ আগে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

