জবির আশপাশে অবৈধ দোকান অপসারণে প্রতিবাদ

জবির আশপাশে অবৈধ দোকান অপসারণে প্রতিবাদ

রাজধানীর পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এর আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধ দোকানপাট, লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জবি শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারী যোগ দেন। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন।

সমাবেশ থেকে অধ্যাপক ড. রইছ উদ্‌দীন তিন দফা ঘোষণা দেন। প্রথমত, রায়সাহেববাজার থেকে কোনো বাস বা লেগুনা এ এলাকায় প্রবেশ করবে না এবং পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা স্ট্যান্ড এখন থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে।

দ্বিতীয়ত, দুই ঘণ্টার মধ্যে বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে কবি নজরুল সরকারি কলেজ হয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত সব অবৈধ দোকানপাট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের তত্ত্বাবধানে ও পুলিশের সহযোগিতায় উচ্ছেদ করতে হবে। তৃতীয়ত, বাহাদুর শাহ সড়কের চত্বরকে ‘বিশ্বজিৎ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো, যা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল হবে।

তিনি বলেন, “পরিবহন ও দোকানপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আমাদের শত্রু নন। তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুরক্ষায়। আমরা চাই সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।”

জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “এই পরিবহনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের ওপর বারবার অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। আজ থেকে রায়সাহেববাজার থেকে কোনো গাড়ি এ এলাকায় প্রবেশ করবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না।

তিনি আরও বলেন, ফুটপাতের দোকানপাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এগুলো দ্রুত অপসারণ জরুরি।

কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন জবি শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আজম খান। বক্তব্য রাখেন পাশ্ববর্তী বাংলা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।

বক্তারা বলেন, এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে হলে অবৈধ দোকান ও পরিবহন প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ফুটপাত দখল করে টং দোকান বসার কারণে মাদক সেবন, অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তারা বলেন, “এই দাবিগুলো নতুন নয়, বহুদিন ধরে সবাই দাবি করে আসছে। আজকের ঘোষণাই তার চূড়ান্ত রূপ।”

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি স্মারকলিপি প্রস্তুত করেন। শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের স্বাক্ষরিত সেই দাবিনামা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, বাহাদুর শাহ পার্ক–সংলগ্ন এলাকা শুধু পুরান ঢাকার নয়, বরং গোটা দেশের শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতীক। বিশ্বজিৎ চত্বর ঘোষণার মাধ্যমে এই জায়গাকে নতুন করে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন