জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি: ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি: ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ।

ছাত্রশিবির জানায়, ‘জুলাই জাগরণ, নব উদ্যমে বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে এবারের কর্মসূচি পালিত হবে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। কর্মসূচিতে শহিদদের স্মরণ, গণহত্যার বিচার এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

- সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স ও আলোচনা সভা

- শহিদদের কবর জিয়ারত ও শহীদ পরিবার-আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

- ‘জুলাই দ্রোহ’ শিরোনামে বিক্ষোভ মিছিল

- আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ডকুমেন্টারি, কালচারাল ফেস্ট

- গ্রাফিতি অঙ্কন, স্মৃতিলিখন, বিতর্ক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

- শহিদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা

- সাক্ষাৎকার ও পডকাস্ট আয়োজন (‘ত্যাগীদের চোখে আগামীর বাংলাদেশ’)

- সাহিত্য সাময়িকী ও বিশেষ সংখ্যার প্রকাশনা

- ‘Think Back to 36 July’ শিরোনামে অনলাইন ক্যাম্পেইন

সংগঠনটি জানায়, এসব কর্মসূচি ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়, তা ছিল একটি ঐতিহাসিক মোড়। এই আন্দোলনে বহু শহীদ রক্ত দিয়েছেন, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকে। আমরা তাঁদের স্মরণ করছি এবং তাঁদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে নতুন করে শপথ নিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আধিপত্যবাদী ভারতের মদদে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করে। বিতর্কিত কোটা পুনর্বহাল ও দীর্ঘদিনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়ায়। এই আন্দোলনকে দমন করতে সরকার ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালায়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছর জুলাই-আগস্টে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন।”

ছাত্রশিবির নেতারা অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং শহিদদের স্মৃতি নিয়ে দলীয় রাজনীতি করার অপচেষ্টা চলছে। তারা দাবি করেন, দেশে বিদ্যমান অস্থিরতা, ধর্ষণ, সহিংসতা ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিলম্ব এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা বলেন, “ছাত্রশিবির এই স্পিরিটকে সামনে রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্ররাজনীতির সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।”

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও ছাত্র রাজনীতিতে সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, “আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, এবং সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ।”

৩৬ দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ছাত্র সমাজ, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন