ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ফের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান আবাসিক হলের রিডিংরুমে (পাঠকক্ষ) প্রবেশ করে প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে আবিদুল ইসলাম খান অমর একুশে হলের রিডিংরুমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন ও কোলাকুলি করেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন এবং দোয়া চান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত প্রার্থী মো. মেহেদী হাসান। গণমাধ্যমের ভিডিওতেও এমনটি দেখা গেছে।

Abid

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনী বিধিমালা ৬ এর (চ) ধারায় বলা আছে— “পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এমন কোনো স্থানে (যেমন—শ্রেণিকক্ষ, পাঠকক্ষ, পরীক্ষার হল ইত্যাদি) সভা/সমাবেশ বা নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও করিডোরে মিছিল করা যাবে না।” এ বিধি অনুযায়ী রিডিংরুমে প্রচারণা চালানো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

জানতে চাইলে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, “অমর একুশে হলে এমন একটি অভিযোগ লিখিতভাবে আমাদের কাছে এসেছে। আমরা নির্বাচন কমিশন বসে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।”

ডাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “কেউ যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে, আমরা তদন্তসাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘আমরা খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রিডিং রুমের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। রিডিংরুমের ভেতর থেকে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণভাবে আমাদের দিকে তাকালে আমরা ভেতরে প্রবেশ করি। দেখলাম লাইব্রেরিটা একটু ছোট। ভেতরে ঢুকলে শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘিরে ধরলো। আমার কী তাদেরকে সালাম দেওয়া উচিত হবে না? আমি তাদেরকে সালাম দিয়ে কথা বলি।’’

তিনি বলেন, এগুলো কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘন না। মূলত এই ঘটনাগুলো ব্যবহার করে আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদেরকে বলবো আপনারা আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করুন।

এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত “ডাকসু ফর চেঞ্জ” প্যানেলের ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা রিডিংরুমে প্রচারণা চালালেও তা আচরণবিধি ভঙ্গ হিসেবে ধরা হচ্ছে না। অথচ আমাদের ক্ষেত্রে সামান্য বিষয়েও অভিযোগ তোলা হয়। টিএসসিতে তাদের দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন আছে, সেটি কি নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে না?”

ছাত্রশিবির সমর্থিত “ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট”-এর জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদ বলেন, “আমরা বারবার নির্বাচন কমিশনকে উদ্বেগ জানালেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রিডিংরুমে প্রচারণার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে।”

এর আগে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্যানেল "বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ" এর জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেছিলেন, ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম একাধিকবার নির্বাচনী বিধিমালা ভঙ্গ করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন।

নির্বাচনী বিধিমালা ১৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার কিংবা রাষ্ট্র/বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে।

ফলে আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্তে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে এখন শিক্ষার্থীরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন