ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সেন্ট্রাল ফর বেঙ্গল স্টাডিজ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে ‘জুলাই উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখা এবং ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন চেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
ফরহাদ হোসাইনের পরিচালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিবিএসের ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট ড. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘জুলাইকে মুছে ফেলার একটি সংস্কৃতি চলমান রয়েছে। বিশেষ করে কিছু সিনিয়র সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী নামধারী ব্যক্তি টকশো ও লেখালেখির মাধ্যমে জুলাইকে অস্বীকার করতে চান। তাদেরকে বিপরীত প্রশ্নে বিদ্ধ করতে হবে। এই ধরনের অস্বীকারের রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে স্থায়ী হবে না, নতুনদের রাজনীতিই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিটির প্রস্তাবনার সমালোচনা করে বলেন, ‘এর মাধ্যমে মূলত ডিনাই অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন-এর উপায়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়ার কথা বলছেন, কিন্তু গণহত্যাকারী কোনো দলকে পুনর্বাসনের উদাহরণ নেই। হাসিনা ফিরে আসার সাহস পাবে না। কোনো ধরনের অভিবাদন তো দূরের কথা, তার নসিবে জানাজাও থাকবে না।’
গবেষক ড. শিব্বির আহমদ ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কাঠামো ভাঙার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগান্ডানির্ভর সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক স্বৈরাচারী কাঠামো দাঁড় করিয়েছিল, তা এখনও তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছে। জার্মানিতে যেভাবে ‘ডি-নাজিফিকেশন’ করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমনি ‘ডি-আওয়ামীফিকেশন’ করতে হবে। আগামীর নতুন রাজনীতি দীর্ঘায়িত করতে হলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জুলাইয়ের শক্তিকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’
বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিটকে নানানভাবে হাইজ্যাক করা হয়েছে। জুলাইয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ আমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছি। আমরা শুনছি হাসিনা নাকি দেশে ফিরে আসবে এবং অনেকে তাকে সংবর্ধনা জানানোর কথা চিন্তা করছেন। হাসিনা দেশে ফেরার সাহস পাবে না। আর যদি আসে, তবে হাজারো মানুষ হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে। ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যার দায়ে আমি নিজে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। নতুন বাংলাদেশ বিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে নতুনদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার তিনটি দিক তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে জুলাইয়ের শক্তির মধ্যে অনৈক্য, বিজয়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং পরাজিতদের ফিরে আসার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের বিজয়ী শক্তির ঐক্যের জন্য কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ও ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু জুলাই প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে। সংস্কার, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো রাজনীতি করতে চায়, তবে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। নতুন প্রজন্ম পুরাতন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তারা প্রয়োজনে বিএনপিকেও দেখে নিবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


