দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বা বার্তা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) উদ্যোগ নিয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, আলোচনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরামসহ বহু মানুষ নিহত হন। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমামুল হোসেন বলেন, “আজকের নতুন বাংলাদেশের পেছনে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। যারা জীবন দিয়ে এই পরিবর্তনের ভিত্তি গড়েছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি প্রত্যাশিত ছিল।”
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আহাদ বলেন, “যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়, এটি ইতিহাস, মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনা ধারণেরও কেন্দ্র। শহীদদের স্মরণ করা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি মানবিকতা, কৃতজ্ঞতা এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “গত বছর সরকার ১৬ জুলাই থেকে মাসব্যাপী জুলাই স্মরণে কর্মসূচি পালনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরাও তখন কর্মসূচি পালন করেছি। এ বছরও সরকার যদি কোনো নির্দেশনা দেয়, আমরা তা অনুসরণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইকে আমরা অবশ্যই গুরুত্ব দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই স্কয়ার’ দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। আমি নিজে সেখানে পরিদর্শন করেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ঘাস কাটা এবং ভাঙা টাইলস মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘জুলাই স্কয়ার’-এর উন্নয়নে নতুন নকশাও আহ্বান করা হয়েছে এবং কয়েকটি স্থাপত্য নকশা আমাদের হাতে এসেছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও ভবিষ্যতে জুলাই স্মরণে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

