জুলাই স্মরণে আগ্রহ নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

জুলাই স্মরণে আগ্রহ নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
জুলাই-স্মরণে-আগ্রহ-নেই-ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পার হতে চললেও দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ইতিহাস ঘিরে নেই কোনো উৎসবমুখর পরিবেশ, দেখা যায়নি কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি । যে আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়, যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসে আমূল পরিবর্তন এবং যার ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোয় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে, সেই জুলাই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি থেকে ধীরে ধীরে মুছে যেতে বসেছে।

নারী শিক্ষার্থী দিবস, জুলাই শহীদ দিবস, ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসজুড়ে নেই বড় কোনো ব্যানার, ডিজিটাল স্ক্রিনে তথ্য প্রদর্শনী কিংবা স্মৃতিচারণমূলক দৃশ্যমান কোনো আয়োজন। গত বছরের মতো নেই শহীদদের স্মরণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা কিংবা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক বড় কোনো কর্মসূচি। সেই সঙ্গে সংরক্ষণের অভাবে প্রতিদিনই বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে আন্দোলনের স্মারক হয়ে ওঠা দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতিগুলো। কোথাও রং মুছে গেছে, কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও নতুন পোস্টার বা রঙের প্রলেপে ঢেকে যাচ্ছে আন্দোলনের জীবন্ত ইতিহাস। গ্রাফিতিগুলো জীবন্ত করে তুলতে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। নেই কোনো পুনর্লিখন কর্মসূচি।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উদযাপনের কথা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না কোনো শোকসভা, দেওয়া হয়নি কোনো শোকবার্তাও। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নীরবতা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা হতাশা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উঠে আসছে একটি প্রশ্ন—মাত্র দুই বছরেই কি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ভুলে যেতে বসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়?

নেই দৃশ্যমান কোনো আয়োজন

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি ধাপে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সে ইতিহাসের দ্বিতীয় বার্ষিকী সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

গেল বছরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ ক্যাম্পাস জুড়ে নানা আয়োজন ছিল। তবে এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জুলাই স্মৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দিবস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রস্তুতির ছাপ দেখা যায়নি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা যায়, জুলাই স্মরণে কোনো দৃশ্যমান ব্যানার, প্রদর্শনী বা আলোকচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন নেই। শহীদদের স্মরণে নেই কোনো উন্মুক্ত প্রদর্শনী। নেই আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার কোনো উদ্যোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি জুলাই নিয়ে কোনো আয়োজন করছেন না? অত্যন্ত অদূরদর্শী কাজ হচ্ছে সেটা। ভুলবেন না, জুলাই আপনাদের পদে বসার সুযোগ দিয়েছে। জুলাই দখল পার্টিরও কোনো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না। আশ্চর্য! হল সংসদগুলোর এবং অনুষদগুলোর অন্তত আয়োজন করা দরকার।’

পালন হয়নি নারী শিক্ষার্থী দিবস

গত বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৪ জুলাই নারী শিক্ষার্থী দিবস পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলো। নারী শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে সমবেত হন। তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাও অংশ নেন। সেখানে স্লোগান হয়, স্মৃতিচারণ হয়, পরিবেশিত হয় গান-আবৃত্তিও। জুলাই জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ডিজিটাল স্ক্রিনে আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করা হয়েছিল। শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন ছিল।

তবে এ বছর নারী শিক্ষার্থী দিবস, জুলাই শহীদ দিবস, সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি। এ বছর ক্যাম্পাস যেন অনেকটাই নীরব।

এমন প্রেক্ষাপটে এসব বিষয়ে কথা বলতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন আন্দোলনের সম্মুখসারির নারী শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তার শিকার হতে হয়। যার কোনো প্রতিকার সমাজ কিংবা রাষ্ট্র দিতে পারছে না।

অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা মনে করেন, অভ্যুত্থানের নারী শিক্ষার্থীরা যেভাবে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন, সরকার রীতিমতো চোখ বন্ধ করে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক, নারী শিক্ষার্থীরা যে ধরনের বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন—বিশ্ববিদ্যালয়ও তা প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। রাষ্ট্র অভ্যুত্থানের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একটা সময় পর স্বাভাবিকভাবেই তারা আর ভয়েস রেইজ করবে না।

জুলাই অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফারুক সিদ্দিক বলেন, গত বছরের ১৪ জুলাইয়ের আয়োজন ছিল স্মরণীয়। নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশ, কনসার্ট এবং সারারাত খোলা ক্যাম্পাস, সব মিলিয়ে দিনটি ঐতিহাসিক দিন ছিল।

তিনি বলেন, গত বছর ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী দিবসের আয়োজন ছিল অসাধারণ। ঘোরাঘুরি, আড্ডা, গান—সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম সুন্দর একটি রাত ছিল সেটি। এবার তেমন কোনো আয়োজনই চোখে পড়েনি।

নেই উচ্চতর গবেষণার উদ্যোগ

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে উচ্চতর গবেষণার কোনো উদ্যোগও নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে বিষয়ভিত্তিক গবেষণার জন্য কোনো বরাদ্দও ছিল না।

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান আমার দেশকে বলেন, আমার কার্যকালে জুলাই নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে আমেরিকার কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ঢাবির সমন্বয় করা হয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা যুদ্ধের বিরোধিতা করে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে বেশকিছু ছাত্র নিহত হন। আমরা জুলাই নিয়ে কিছু কেস স্টাডি করেছিলাম। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের দুজন অধ্যাপকের সহযোগিতায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আমরা একটা ডেমোক্রেসি ল্যাব স্থাপন করেছিলাম। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল এসব বিষয়ে গবেষণা করা।

তিনি বলেন, আমরা উচ্চতর গবেষণা করতে না পারলেও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বেশকিছু-সেমিনার সিম্পোজিয়াম করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষায়িত ১১টি লেখা সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈষ্ঠ্য এক গবেষক বলেন, এ সেক্টরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এজেন্ডাভিত্তিক গবেষণা অনুদান দেওয়া দরকার। সেটি বেসরকারি অথবা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেও হতে পারে।

সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান মনে করেন, জুলাই নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে স্কলারদের এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণার ইচ্ছে থাকলে কাজ আটকে থাকবে না। সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান এই সেক্টরে আর্থিক সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক রয়েছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কলা অনুষদে এসব বিষয়ে গবেষণার জন্য বেশ কিছু রিসার্চ সেন্টার রয়েছে। তারা এসব বিষয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিলে আমরা অবশ্যই অ্যাপ্রিশিয়েট করব।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে গবেষণা বরাদ্দ যা আসবে, সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কেউ প্রজেক্ট দিলে সেটি আমরা ফার্স্ট প্রায়োরিটি দিয়ে বিবেচনায় নেব। আমরা পরবর্তী সভায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করব।

উপ-উপাচার্য বলেন, আমাদের যেসব সেমিনার সিম্পোজিয়াম করার কথা রয়েছে সেগুলো যেন অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং একাডেমিক হয় সেদিকে আমরা গুরুত্বারোপ করব।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির আহত শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২৬ জন। তবে আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত প্রশাসন তাদের একাডেমিক ফি মওকুফ করেনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষার্থী খান জসিম আমার দেশকে বলেন, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহত শিক্ষার্থীদের ফি মওকুফ করার উদ্যোগ নেয়নি। অনেক শিক্ষার্থী আহত হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয়ের গেজেটে তাদের নাম আসেনি। অনেকের আবার গেজেটে নাম আছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম নেই।

এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভ্যুত্থানে ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের। তিনি আমার দেশকে বলেন, জুলাই নিয়ে কোনো গঠনমূলক পরিকল্পনা বর্তমান প্রশাসনের নেই। তাদের এমন বেখেয়ালি মনোভাব আমাদের খুবই ব্যথিত করে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, খুবই পরিকল্পিতভাবে জুলাই স্মৃতিগুলোকে তারা মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধিদের নীরবতা আমাদের আরো বেশি ভাবিয়ে তোলে।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে একাধিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে অনীহার বিষয়টি এড়িয়ে যান উপাচার্য।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই উদযাপনে অবহেলা করা হচ্ছে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিক থেকে অনীহা রয়েছে—বিষয়টি সঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তিনি জানান, ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি মিটিংয়ে ৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘জুলাই স্মৃতি কর্নার’ স্থাপন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আলোচনা সভা, প্রতিটি হল ও অনুষদে নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ, শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর ১৪ জুলাই ‘উইমেন্স ডে’ উদযাপনের সিদ্ধান্তও সভায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হন। আহত ও অঙ্গহানির শিকার হন প্রায় ৩০ হাজার। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এ গণঅভ্যুত্থানের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, এত বড় আত্মত্যাগের ইতিহাস কি মাত্র দুই বছরেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিস্মৃত হতে শুরু করেছে?

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়ে নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস পৌঁছে দিতে দৃশ্যমান ও গঠনমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, হল এবং বিভাগভিত্তিক আলোচনা, প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি উচ্চতর গবেষণা কর্মসূচিও গ্রহণ করা দরকার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন