কালচারাল ফেস্টে আজহারী

তাকওয়া ও সদাচরণ সবচেয়ে বেশি মানুষকে প্রবেশ করাবে জান্নাতে

স্টাফ রিপোর্টার

তাকওয়া ও সদাচরণ সবচেয়ে বেশি মানুষকে প্রবেশ করাবে জান্নাতে

ইসলামে উত্তম আচরণের গুরুত্ব মানুষ হরহামেশা ভুলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণের গুরুত্ব আমরা উপলব্ধি করতে পারি না বলেই এমনটা করে থাকি।

শনিবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘তৃতীয় ডিআরএমসি ন্যাশনাল ইসলামিক কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ও বুক ফেয়ার-২০২৬’ এর সমাপনী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, আমরা যদি রাসুল (সা.) এর পুরো জীবনী সংক্ষেপে দেখার চেষ্টা করি তাহলে দেখব যে, তিনি বড়-ছোট, নারী-পুরুষ, শত্রু-বন্ধু নির্বিশেষে সবার সঙ্গে খুব অমায়িক আচরণ করতেন। তার এমন আচরণে মুগ্ধ হয়ে অনেক ঘোরশত্রুও বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। এত ভালো আচরণের অধিকারী হয়েও তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ, আপনি আমার দেহকে যেমন সুন্দর করেছেন, আমার চরিত্রকে তেমন সুন্দর করে দিন।

একটি হাদিস উল্লেখ করে এ ইসলামিক স্কলার বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তার একটি হচ্ছে তাকওয়া (আল্লাহর ভয়) এবং আরেকটি হচ্ছে হুসনুল খুলুক তথা সদাচরণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন।

মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে অভিভাবকদের বলতে চাই, আমাদের সন্তান সবকিছু শিখছে, কিন্তু কোরআন শিখছে না। আপনার সন্তান কোরআন শিখছে কি না—এটাই হোক আপনার প্রধান চিন্তা। কারণ, যখন সে এ শিক্ষা পায় না, তখন অভিভাবক হিসেবে আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়তেই থাকে।

জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন, আমরা দেখি, সন্তান ঠিকমতো পড়ছে না, কথা শুনছে না, কোথায় যাচ্ছে জানি না। এর মূল কারণ হলো—তার অন্তরে যে নূর দরকার, তা নেই। তিনি বলেন, মানুষের অন্তরের প্রধান খাদ্য হলো নূর। সেই নূর আসে কোরআন থেকে, ইসলামিক জ্ঞান থেকে। যখন এ নূর থাকে না, তখন মানুষের অন্তর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়, মনও মরে যেতে থাকে।

এর আগে তিন দিনব্যাপী এ কালচারাল ফেস্ট প্রতিভা বিকাশের এক বিস্তৃত মঞ্চে পরিণত হয়। উৎসবে এবারের মূলমন্ত্র ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ (এসো কল্যাণের পথে)। উৎসবে অনলাইন ও অফলাইনে অংশ নেওয়ার জন্য ছিল মোট ৩২টি প্রতিযোগিতামূলক সেগমেন্ট। অংশগ্রহণকারীরা তাদের জ্ঞান, প্রকাশভঙ্গি ও সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের সুযোগ পায়। প্রতিযোগিতায় শতাধিক খ্যাতনামা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন