শহীদদের স্মরণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শহীদদের স্মরণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে এক ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সহ-সভাপতি আল মামুনের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে শহীদ হওয়া বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি গাছ যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন, ছায়া ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি শহীদদের আত্মত্যাগও একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে। তাই শহীদদের স্মৃতিকে ধারণ করার প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আল মামুন বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় ছাত্রসমাজ সবসময় সচেষ্ট থাকবে। আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নয়, এটি শহীদদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে তরুণ সমাজকে শুধু রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলেই চলবে না, পরিবেশ সংরক্ষণেও এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণ—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা শহীদদের স্মরণে গাছ লাগানোর মতো মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতেও সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের আদর্শ ও ত্যাগের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে আরও বেশি করে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বলেন, একটি গাছ যেমন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে মানুষকে উপকার করে, তেমনি শহীদদের আদর্শও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ন্যায়বোধের চর্চা বৃদ্ধি করবে। তাই স্মৃতিচারণের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম উপায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক মিরাজ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক অনিক মাহমুদ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান এবং সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব শিকদার প্রমুখ।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন