‘অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দিকে কেউ মনোযোগ দেয়নি’

‘অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দিকে কেউ মনোযোগ দেয়নি’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের দমন-পীড়নের মুখে সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে ছিলেন দেশের শত শত ক্যাম্পাস সাংবাদিক। বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে, রক্তাক্ত সহপাঠীদের ছবি তুলে, ক্যাম্পাসজুড়ে নিপীড়নের চিত্র বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছিলেন তারা। আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিও প্রচারিত হয়েছে তাদের কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে। কিন্তু অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রতি নেই কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, নেই ন্যূনতম বেতন কাঠামো, নিরাপত্তা কিংবা পেশাগত সুযোগ-সুবিধা।

বিজ্ঞাপন

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় উঠে আসে এসব হতাশার কথা।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল ‘কেউ কেউ কথা রাখে’।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগান্তর রিপোর্টার মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, যখন জাতির বিবেকেরা নীরব ছিলেন, তখন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা লাঠিপেটা খেয়ে, পেট্রোল বোমার আওতায় থেকেও প্রতিবাদের চিত্র তুলে ধরেছে। অথচ অভ্যুত্থানের পর তাদের অবস্থান নিয়ে কেউ কথা বলেনি, কেউ পাশে দাঁড়ায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি বলেন, ‘রিপোর্ট একটু এদিক-সেদিক হলেই ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের চাকরি যায় যায় অবস্থা হয়। নেই কোনো বেতন কাঠামো, নেই নিরাপত্তা বা সুবিধা। অথচ অভ্যুত্থানের পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বা মাহফুজ আলম- কেউই ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিয়ে একটিবার ভাবেননি।’

ডুজার দপ্তর সম্পাদক তাওসিফুল ইসলাম বলেন, ১৯ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভৎস চিত্র আমাদের চোখের সামনে ছিল। আমরা বাড়ি ফিরিনি। শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাবের ছবিগুলো পাঠিয়েছিলাম আমরাই। কিন্তু এই সাহসিকতার কোনো মূল্য আজও দেয়া হয়নি।

ডেইলি স্টার বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ইমরান মাহফুজ বলেন, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ হয়নি। অথচ ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে হল বন্ধ করে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় ক্যাম্পাসেই। সেই বর্বরতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল আমার ক্যাম্পাস সাংবাদিক ভাইয়েরা। কিন্তু আজো তারা ঠিকমতো বেতন পায় না। মিডিয়াগুলো তাদের দিয়ে দিনরাত কাজ করায়, কিন্তু ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দেয় না।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)-এর অধ্যাপক ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিকাশে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানে তারা কেবল সংবাদ পরিবেশন করেনি, বরং ইতিহাসের জীবন্ত দলিল তৈরি করেছে। অথচ তাদের জন্য কোনো পুরস্কার, বৃত্তি বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়নি-;এটি জাতীয় দুর্ভাগ্য।

এএফপির সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী মাজেদ বলেন, বর্তমানকে ভবিষ্যতের জন্য ডকুমেন্ট করার দায়িত্ব ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা দারুণভাবে পালন করেছে। বহিরাগত এনে ছাত্রলীগ যখন ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালিয়েছে, তখন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। অথচ এক বছর পেরিয়ে গেলেও তারা এখনও অধিকার থেকে বঞ্চিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন