শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাচার্যের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের গড়িমসি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এবং যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার শিকার হচ্ছি। উপাচার্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আজ কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, উপাচার্যকে বাঁচাতে তার অনুসারী বাহিনী এবং স্বয়ং প্রক্টর আমাদের ওপর চড়াও হন। তারা আমাদের গায়ে হাত দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে সংবাদ সম্মেলনটি বন্ধ করে দেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো হামলা বা মব করে আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে সরানো যাবে না।”
সিয়াম অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি তাকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে গায়ের কলার ধরে মারতে উদ্যত হন। তার দাবি, রিফাত রাফি আগে ছাত্রলীগের লিফলেট বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি। তিনি বলেন, “হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করেননি। যদি তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আমার সকল দায়িত্ব ও শিক্ষকতা জীবন থেকে অব্যাহতি নেব।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান শিক্ষার্থীদের যে কোনো আন্দোলন করার অধিকার আছে। তবে উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। সাবেক শিক্ষার্থী ইমরান ঘটনাস্থলে আসার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তিনি না এলে হয়তো কোনো সমস্যা হতো না।”
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

