সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের জেরে এক্টিভিস্ট হাসান নাসিমকে ‘ডিবি পরিচয়ে’ বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
ঘটনাটিকে নাগরিকের সংবিধানস্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে ডাকসু।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জোড়া বিল্ডিং রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠে। হাসান নাসিমের ভাই হাসান নোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার সমালোচনা করে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক বিবৃতিতে বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ ধরনের গুম বা বিনা ওয়ারেন্টে তুলে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি অবিলম্বে হাসান নাসিমকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
ডাকসুর জিএস বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সময়ে অসংখ্য মানুষকে একইভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যাদের অনেকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গুম, নিখোঁজ এবং বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড একটি রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জাজনক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী মতামত বা সমালোচনার কারণে কাউকে গ্রেফতার করা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ডাকসু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে, বর্তমান সরকার যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী লেখালেখি দমন করতে চায় এবং বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভয় সঞ্চার করে সমালোচনা থেকে বিরত রাখতে চায় তবে তারা ভুল করছে। কারণ ২০২৪ সালের এই প্রজন্ম রাজপথে নেমে জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এই প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না; তারা অন্যায়, দমন-পীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

