ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অনলাইন ও অফলাইনে সাইবার বুলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীন থাকলেও অবিলম্বে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাইবার সেলগঠন করতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান প্যানেলের নেতৃবৃন্দ।
প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, “ঢাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের ওপর যে সাইবার বুলিং চলছে, তা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।”
তিনি আরও দাবি করেন, কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভোটকেন্দ্র সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হোক। যদিও কবি সুফিয়া কামাল হলের ভোটকেন্দ্র জিওলজি ডিপার্টমেন্টে স্থানান্তরের জন্য তারা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান, তবে শামসুন্নাহার হলের ভোটকেন্দ্র ল্যাবরেটরি স্কুলে করায় নারী শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে অনিচ্ছুক হতে পারেন। এ কারণে সেটি পরমাণু শক্তি কমিশনে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন তিনি।
নির্বাচনী তথ্যের স্বচ্ছতার অভাবেরও সমালোচনা করেন উমামা। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। “ভোট দিতে হলে হল কার্ড রিনিউ করতে হবে—এই তথ্য অনেকেই জানেন না। ফলে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন। আমরা প্রস্তাব করছি, করোনাকালে প্রদত্ত সেন্ট্রাল আইডি কার্ড দিয়েও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখতে হবে।”
প্যানেলের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক প্রার্থী নুসরাত জাহান নিশু বলেন, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। তিনি ভোটকেন্দ্রের পাশে স্যানিটেশন, পানীয় জল ও মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, নির্বাচনের দিন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে সহজে চলাচলের জন্য বাসের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও জানান তিনি। নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন প্যানেলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

