শাবিপ্রবিতে লেক ভরাট করে চলছে গ্যারেজ নির্মাণ

মাঈন উদ্দিন, শাবিপ্রবি

শাবিপ্রবিতে লেক ভরাট করে চলছে গ্যারেজ নির্মাণ
শাবিপ্রবিতে সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা নান্দনিক শহীদ রুদ্র সেন লেক ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে গাড়ি রাখার গ্যারেজ। ছবি: আমার দেশ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নান্দনিক ‘শহীদ রুদ্র সেন লেক’ ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে গাড়ি রাখার গ্যারেজ। লেক ভরাট ছাড়াও পাশের টিলার কিছু অংশ কাটা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা এই জলাধার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। লেকটি একদিকে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে শহীদ রুদ্র সেনের আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা সুন্দর এ জলাধার ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজ নির্মাণে তোড়জোড় চলছে।

বিজ্ঞাপন

নির্মাণাধীন দোতলা এই গ্যারেজে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা যাবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে রয়েছে ৪২টি গাড়ি; প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া গ্যারেজটিতে বড় যানবাহন নিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুবই সংকুচিত। এ বিষয়ে আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ; কিন্তু সম্প্রতি আবার কাজ শুরু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই গ্যারেজ নির্মাণ একদিকে লেকের সৌন্দর্য নষ্ট করবে, অপরদিকে টাকার অপচয় হবে। ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যারেজ নির্মাণ করে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা হবে। অধিকাংশ গাড়িই থাকবে বাইরে। তাহলে এত টাকা ব্যয়ে গ্যারেজ নির্মাণের অর্থ কী?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, গ্যারেজটির পাশে স্বাভাবিকভাবেই শতাধিক গাড়ি রাখার মতো জায়গা খালি পড়ে আছে। গ্যারেজ সরিয়ে পাশের এই খালি জমিতে স্থানান্তর করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ২২টি গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজ নির্মাণে স৭ কোটি টাকার প্রয়োজন কী করে হয়? এ টাকা দিয়ে ২২টি গাড়ি রাখার গ্যারেজের পরিবর্তে কয়েকটি গাড়ি কিনলে বিশ্ববিদ্যালয় বেশি উপকৃত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির মধ্যে মাত্র ২২টি গাড়ি গ্যারেজে রাখলে বাকিগুলোর কী হবে? সেগুলো কি আমরা রোদ-বৃষ্টিতে রেখে নষ্ট করব?

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল আহমেদ চৌধুরীকে কদিন যাবৎ ফোনে না পেয়ে তার কার্যালয়ে যান এই প্রতিবেদক। এ সময় তাকে লেক নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তাদের কল ধরব কেন? সব কাজে এত খোঁজাখুঁজি কীসের? তোমরা সব কাজে খোঁজাখুঁজি করবে কেন?’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...