ভোটের প্রচারে সরব হয়ে উঠেছে ঢাবি ক্যাম্পাস

ভোটের প্রচারে সরব হয়ে উঠেছে ঢাবি ক্যাম্পাস

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে নির্বাচনি আমেজ। প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতি ও অভিযোগ-প্রত্যাশা তুলে ধরছেন শিক্ষার্থীদের সামনে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রশ্ন এমনকি প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে বিতর্ক-সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে নির্বাচনি উত্তেজনা তুঙ্গে।

শনিবার অমর একুশে হলে ছাত্রদলের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংগঠনটির ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমরা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং কোয়ালিটিফুল রাজনীতি চাই। পারস্পরিক প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা হবে যোগ্যতার মানদণ্ডে।

বিজ্ঞাপন

নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নীতিমালাকে ‘ডাইনোসর যুগের আইন’ উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। আবিদুল বলেন, একজন নারী শিক্ষার্থী বৈধ কার্ড থাকার পরও অন্য হলে গিয়ে প্রচার চালাতে পারে না। ছেলেরা যেমন হলে হলে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, মেয়েরা তা পারে না। এতে ডাকসু নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হচ্ছে না।

এই ভিপি প্রার্থী জানান, ছাত্রদলের প্যানেলের পক্ষ থেকে নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দাবিতে শিগগির স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পরিবর্তন হবে। নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্য ও আবাসন হবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে, মেধা ও কাজের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে না পেরে প্রতিপক্ষ প্রোপাগান্ডা ও নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং করছে বলে অভিযোগ করেন ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের এই ভিপি প্রার্থী। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতায় পিছিয়ে পড়ে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ করা হচ্ছে। কাদা ছোড়াছুড়ি না করে মেধার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের নিন্দা জানান।

সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। সেই জ্ঞান বৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছে এই লাইব্রেরি। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় লাইব্রেরি ও গবেষণা খাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ থাকে অথচ আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। এখানে লাইব্রেরি ও গবেষণার জন্য বরাদ্দ মাত্র ২ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আসন সংকট রয়েছে। বই হলে বা বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর্কাইভ সেকশনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। বিশ্বের বড় বড় লাইব্রেরিতে যে আধুনিক সুবিধা রয়েছে, আমরা নির্বাচিত হলে সেসব সুবিধা চালু করব ইনশাল্লাহ।

অভিযোগ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। আচরণবিধি ভঙ্গ করে অনেকে রঙিন প্রিন্ট পোস্টার ব্যবহার করে প্রচার চালাচ্ছে। অথচ এখনো সেগুলো সরানো হয়নি। আবার নারী ভোটার তালিকায় যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে না পারে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। যারা পর্দা করে বা চেহারা প্রকাশ করতে চায় না, তাদের সমস্যার সমাধানও প্রশাসন করেনি। বলা হচ্ছে, ভিসি নাকি চাপ অনুভব করছেন। আমরা এ নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অনলাইন ও অফলাইনে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু প্রার্থী নিজেদের কর্মসূচি বা দিকনির্দেশনা না দিয়ে শুধু আমাদের কেন ভোট দেওয়া উচিত নয়, সেটি প্রচার করছে। আমরা মনে করি, এটি স্পষ্টভাবেই আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি আমার দেশকে বলেন, শুধু হল আইডি কার্ডের ওপর ভোটাধিকার নির্ভর করতে পারে না। অনেক শিক্ষার্থী অনাবাসিক, তাদের কারো কাছে পে-ইন স্লিপ, কারো কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি আছে। ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই ভোট দিতে পারতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. হাসিবুল ইসলাম।

এর আগে বাগছাসের প্যানেল ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে তাকে মনোনীত করা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে দলীয় প্যানেল থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বতন্ত্র থেকে এজিএস পদে লড়বেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বিতর্কের মুখে নিজেদের প্যানেল থেকে এক প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী জয়েন উদ্দিন সরকার তন্ময়কে সরিয়ে দেওয়া হয় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

গত শুক্রবার রাতে ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে তন্ময়কে বাদ দেওয়া হয়। প্রচারের পোস্টার থেকেও তার ছবি সরানো হয়েছে।

এ বিষয়ে তন্ময় দাবি করেন, শব্দচয়নের সমস্যার কারণে আমি পোস্টটি আগেই মুছে ফেলেছিলাম। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ছাত্রশিবিরের ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল মারুফ জানান, তন্ময় নিজে ব্যক্তিগত কারণে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।

সব মিলিয়ে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের নানান প্রতিশ্রুতি, দাবি ও বিতর্কে সরব হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন