গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার ছুটি শেষে দীর্ঘ ২২ দিনের বিরতি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। তবে রাজধানীতে ফেরা তাদের জন্য হয়ে উঠেছে একরকম দুঃস্বপ্ন। সীমিতসংখ্যক ট্রেন ও বাসের টিকিট, অতিরিক্ত ভাড়া, দুর্বল যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পথিমধ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিন আগামীকাল রোববার (১৫ জুন)। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী এখনো ঢাকায় ফিরতে পারেননি। অনেকে বাধ্য হয়ে এক-দুই দিন পরের টিকিট নিয়েছেন। ফলে ক্লাসের প্রথম দিনেই তাদের অনুপস্থিত থাকতে হবে।
নীলফামারী থেকে ফিরেছেন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান নয়ন। তিনি বলেন, “ঈদের সময় ট্রেনের টিকিট পেতে যুদ্ধ করতে হয়। ১০ দিন আগে চেষ্টা করেও অনেক সময় টিকিট পাওয়া যায় না। কেউ দাঁড়িয়ে আসে, কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাসে। এমনিতেই বাসভাড়া দ্বিগুণ, তবুও টিকিট মেলে না। তার উপর যানজট তো আছেই।”
তিনি আরও বলেন, “ টিকিট কাটার জন্য আগে থেকেই ফেরার প্ল্যান করতে হয়। তাতেও হয়রানি কমে না। উত্তরবঙ্গের রেল সেবা উন্নত হলে এবং বাস ভাড়ার উপর সরকারের কড়া নজরদারি থাকলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেতাম। দিনের শেষে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দটাই মূল পাওনা। তাই সব সহ্য করি।”
এদিকে কুড়িগ্রাম থেকে ফিরছেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল মামুন। তিনি বলেন, “ঈদ মানেই শৈশবের ফেরা। কিন্তু সেই আনন্দ মাটি হয়ে যায় ফেরার সময়। বাস ভাড়া ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়—যা নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ। এই সিন্ডিকেট চালকদের হাতে আমরা জিম্মি। তাছাড়া যাত্রাপথে বিভিন্ন পয়েন্টে বাস থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুণ দামে খাবার বিক্রি করা হয়। এটা যেন এক ধরনের চাঁদাবাজির জাল। এ অবস্থা কবে পাল্টাবে?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী মনে করেন, যেহেতু ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের একযোগে ঢাকায় ফেরা নির্দিষ্ট, তাই জবি প্রশাসন চাইলে তাদের পরিবহন সুবিধা দিতে পারত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহিদ হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “যদি ছুটির শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসগুলো বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে পাঠানো হতো, তবে অনেক শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কমে যেত। অন্তত কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী নিরাপদে ফিরতে পারত।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন,“ছুটির সময়সূচি আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক সময় প্রথমদিন ক্লাস স্বাভাবিকভাবে শুরু হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের কথা প্রশাসন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। ঈদ বা বড় ছুটির পর ট্রেন ও বাসে টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, আর হয়রানি—সব মিলিয়ে যেন এক চিরচেনা চিত্র। বিশ্লেষকদের মতে, আগেভাগে প্রস্তুতি নিলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

