আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ধর্ষকদের বিচারে অগ্রগতি না হলে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে

প্রতিনিধি, ঢাবি

ধর্ষকদের বিচারে অগ্রগতি না হলে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে
ছবি: আমার দেশ

নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

সমাবেশে ডাকসু নেতারা বলেছেন, ধর্ষণকারীদের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সারাদেশে ছাত্রসমাজ গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে ডাকসুর নেতারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর জনগণ নতুন সরকারের কাছে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে সারা দেশে ধর্ষণ, হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নরসিংদীর একটি ঘটনায় কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং অভিযুক্তদের রক্ষায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ভিপি বলেন, ‘বিচারের পরিবর্তে যদি অপরাধীকে আড়াল করা হয়, তাহলে জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হবে।’

তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের প্রতি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারেক রহমান হেঁটে যাচ্ছেন, সাধারণ চেয়ারে বসছেন এমন নিউজ হয়, কিন্তু ধর্ষণের সাথে কারা জড়িত তাদের নিউজ হয় না। এমন বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাইনি, এমন গণমাধ্যম তো জনগণ চায়নি।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, অপরাধ ঢাকতে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হলে তা আরো বড় সংকটে পরিণত হবে।

সমাবেশে এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। প্রতিটি ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...