জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচারসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য কার্যালয়ে এসব দাবি সংক্রান্ত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ এম এ কাউসার ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, উচ্চশিক্ষার প্রসার, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবদান তুলে ধরে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও '২৪-এর স্বৈরাচারী হাসিনা বিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছেন।
দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে ঢাবির পাঠ-পঠন একদিকে যেমন আধুনিক হয়নি, পাশাপাশি এর অবকাঠামোরগত উন্নতিও হয়নি উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবসন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের জন্য সাদা দলের পক্ষ থেকে নির্ধারিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন হল নির্মাণ এবং পুরাতন ও জরাজীর্ণ হলগুলোকে দ্রুত সংস্কার করে ছেলেদের ১৪টি, মেয়েদের ৫টি আবাসিক হল এবং ৪টি হোস্টেলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য 'স্বতন্ত্র বেড' নিশ্চিত করা; শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালোরি চাহিদা পূরণ করতে হলগুলোতে খাবারের মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সুপেয় পানির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলেক্ট্রিক ফিল্টারের ব্যবস্থা করা; মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষগুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো; কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ অন্যান্য গ্রন্থাগারের অবকাঠামো উন্নয়ন করে প্রয়োজনীয় বই ও জার্নাল সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা; শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা; প্রথমবর্ষের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি; নিরাপদ পরিবহণ সুবিধা দিতে বাস সার্ভিস রাত ৮ টা পর্যন্ত বাড়ানো; শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে 'স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং ও মেন্টরশীপ' কর্মসূচি উন্নতিকরণ; দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটাইজেশন করা; শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণে সিসিটিভি সচল রাখা ও ভবঘুরেদের বিতাড়ন করা; ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তার সংস্কার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসী ও বিচার নিশ্চিতকরণ; চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হেনস্তার সাথে জড়িত শিক্ষদের তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

