দক্ষিণাঞ্চলের শেষ ভরসা খুমেক নিজেই সংকটে

ইব্রাহিম খলিল, খুবি

দক্ষিণাঞ্চলের শেষ ভরসা খুমেক নিজেই সংকটে

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে তখনো থামার নাম নেই একের পর এক অ্যাম্বুলেন্সের। সাইরেনের শব্দ আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে চারপাশ। কারো হাতে ঝুলছে স্যালাইনের বোতল, কেউ হুইলচেয়ারে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, আবার কেউ স্বজনদের কাঁধে ভর করে আসছেন একটুখানি চিকিৎসার আশায়।

হাসপাতালের মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর লাইন। রোগী ও স্বজনদের চোখে-মুখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা, আর ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগীর দমবন্ধ করা পরিবেশ। কোথাও একটিমাত্র বেডে গাদাগাদি করে শুয়ে আছেন দুজন রোগী, কোথাও আবার মূল হাসপাতালের বারান্দায় বা মেঝেতে চলছে মুমূর্ষু মানুষের চিকিৎসা। নোংরা মেঝেতে বিছানা পেতে স্যালাইন নেওয়ার দৃশ্য এখন আর এই হাসপাতালের জন্য কোনো অস্বাভাবিক বা নতুন ঘটনা নয়। এটিই এই অঞ্চলের প্রতিদিনের চেনা বাস্তবতা।

বিজ্ঞাপন

ভৌগোলিক গুরুত্ব ও শয্যা সংকটের আদ্যোপান্ত

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাসেবা ও উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি ৫০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতালে রূপ নিয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষের প্রধান ভরসা এখন এই হাসপাতাল।

কাগজে-কলমে হাসপাতালটির জেনারেল বেড ৫০০টি এবং মোট কেবিন রয়েছে ৩৮টি। কিন্তু এই সীমিত অবকাঠামো নিয়ে হাসপাতালটিকে প্রতিদিন বিশাল অঙ্কের রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ বিভাগে (ইনডোর) গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। অর্থাৎ, ধারণক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি চাপ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

বারান্দা, করিডোর, মেঝে—সবই এখন ওয়ার্ড

হাসপাতালের ভেতরে সরেজমিনে গিয়ে যে চিত্র দেখা গেছে, তা এককথায় ভয়াবহ। ভবনের নিচতলা থেকে শুরু করে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ড, করিডোর, সিঁড়িঘর, এমনকি বাথরুমের ঠিক পাশটিতেও নোংরা পরিবেশে রোগী শুইয়ে রাখা হয়েছে। মূল ভবনের দোতলায় উঠতেই মনে হবে এটি কোনো চিকিৎসালয় নয়, বরং একটি উদ্বাস্তু শিবিরের ‘গণরুম’। বারান্দাজুড়ে সারি সারি রোগীর শয্যা পাতা। হাঁটার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই।

মেডিসিন ইউনিটে ৪০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন প্রায় ২৬৫ জন রোগী। অনেকেই সপ্তাহ পার করলেও একটি সরকারি শয্যা বা বেড পাননি। তেরখাদা উপজেলা থেকে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন ফিরোজ আহমেদ। তার স্ত্রী তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ফিরোজ আহমেদ ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক সপ্তাহ হয়ে গেল স্ত্রীকে নিয়ে এখানে এসেছি, এখনো একটা বেড পাইনি। বারান্দায় প্রচণ্ড গরম, ফ্যানও ঠিকমতো চলে না। ডাক্তাররা এসে দেখে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এই নরকযন্ত্রণায় কষ্ট তো কমছে না। এখানে যে একটু হাঁটব বা বসব, সেই জায়গাটুকুও নেই।’

একই চিত্র দেখা গেল নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে আসা আকলিমা খাতুনের ক্ষেত্রে। তিনি তার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে এসেছেন। আকলিমা বলেন, ‘গরিব মানুষ আমরা, বড় সরকারি হাসপাতাল বলে অনেক আশা নিয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি শোয়ার জায়গা নেই। সিট না পেলে কতদিন এভাবে মেঝেতে ফেলে রাখব জানি না।’

খুলনার ফুলতলা থেকে আসা সুব্রত মণ্ডল হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালের একটি সরু করিডোরে চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, ‘চিকিৎসকেরা নিয়মিত দেখছেন, কিন্তু বেড খালি নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই বারান্দাতেই থাকতে হচ্ছে।’ শিশু ওয়ার্ড, সার্জারি বিভাগ এবং ডেঙ্গু ইউনিট—সবখানেই একই অবস্থা, তিলধারণের ঠাঁই নেই।

বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগেও দীর্ঘ অপেক্ষা

ভেতরে ভর্তি থাকা রোগীদের দুর্দশাই শেষ নয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের (আউটডোর) চিত্রও সমানভাবে শোচনীয়। হাসপাতাল প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাত্র এক মাসেই বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন মোট ২৯ হাজার ৬৬৯ রোগী, যেখানে প্রতিদিন গড়ে আউটডোরে রোগী আসছেন ১ হাজার ৫০০ জন। ভোর থেকে শুরু হওয়া লাইনের অপেক্ষা চলে দুপুর পর্যন্ত।

সাতক্ষ্যারার প্রত্যন্ত শ্যামনগর উপজেলা থেকে আসা রোকসানা বেগম বলেন, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। ডাক্তার দেখাতে দুপুর হয়ে গেছে। আমাদের তো প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার টাকা নেই, তাই এই কষ্ট সহ্য করতেই হবে।’

অন্যদিকে জরুরি বিভাগ বা ইমার্জেন্সিতেও তিল ধারণের জায়গা থাকে না। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৯৩ রোগী জরুরি চিকিৎসার জন্য আসেন। অথচ এই বিশালসংখ্যক মুমূর্ষু রোগীকে তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ইমার্জেন্সি ডাক্তার আছেন মাত্র ছয়জন। এছাড়া পুরো হাসপাতালের জন্য ইমার্জেন্সি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) রয়েছে মাত্র তিনটি, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

জনবল সংকট : পদের বিপরীতে শূন্যতা

হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ তীব্র জনবল সংকট। তথ্য অনুযায়ী, ইনডোরে ডাক্তারদের অনুমোদিত পদ ২৮৯টি থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৬৮ জন। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে প্রফেসর আছেন ২৩ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৩৭ জন এবং সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন ৩৬ জন। এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসাসবার বড় একটি অংশ টেনে নিচ্ছেন ১৫৬ জন ইন্টার্নি ডাক্তার।

সার্জারি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে ডাক্তার আছেন মাত্র সাতজন এবং পুরো হাসপাতালে ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র একজন। সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা আকস্মিক ট্রমার শিকার রোগীদের জন্য এখানে একটি বিশেষায়িত ‘ক্যাজুয়ালিটি ডিপার্টমেন্ট’ বা জরুরি দুর্ঘটনা বিভাগ অত্যন্ত প্রয়োজন হলেও তা এখনো গড়ে ওঠেনি।

সেবিকা বা নার্সিং সেক্টরে সিনিয়র স্টাফ নার্স আছেন ৪৩২ জন এবং জুনিয়র স্টুডেন্ট নার্স রয়েছেন ২৬০ জন। তবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে প্রশাসনিক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। হাসপাতালের মোট জনবল কাঠামো লক্ষ করলে দেখা যায়—প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ২৯৮ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৩০৪ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৮০ জন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৮৭ জন এবং আউটসোর্সিং কর্মী রয়েছেন ১৮৪ জন।

সাড়ে তিন কোটি মানুষের এই বিশাল হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়মিত কর্মচারী রয়েছেন মাত্র ১৬৭ জন (৮০+৮৭), যা দিয়ে এই বিশাল ভবনের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব। এছাড়া ২০টি আইসিইউ বেড সচল থাকলেও পুরো হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিরাপত্তাকর্মী আছেন মাত্র ১০ জন, যার কারণে চোর ও বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

লাইফ সাপোর্টের যন্ত্রপাতি বিকল : রোগ নির্ণয়ে চরম ভোগান্তি

হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয় বিভাগের চিত্র আরো করুণ। কোটি কোটি টাকা মূল্যের জীবনরক্ষাকারী মেডিকেল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে, যার ফলে দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে একটিমাত্র এমআরআই মেশিন চালু আছে, যা কেবল সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সেবা দেয়। বিগত মাসে এই মেশিনটির মাধ্যমে ১৯১ জনের এমআরআই করা হয়েছে। হাসপাতালে মোট দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন থাকলেও বর্তমানে দুটিই সম্পূর্ণ নষ্ট বা অচল হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালে মোট এক্স-রে মেশিন রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে সকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভালো সেবা দিতে পারে মাত্র চারটি মেশিন, বাকিগুলো জনবলের অভাব ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভুগছে। গত মাসে এখানে ৩ হাজার ৮১৬টি এক্স-রে করা হয়েছে। হাসপাতালে মোট আল্ট্রাসোনো মেশিন আছে ১০টি। এর মধ্যে মাত্র চারটি ভালো আছে এবং বাকি ছয়টি মেশিনই সম্পূর্ণ নষ্ট। গত মাসে ১ হাজার ৫৫৫টি আল্ট্রাসোনো করা সম্ভব হয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষার জন্য গত মাসে ৪ হাজার ৮০০টি প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে, অথচ এই বিশাল ল্যাব সামলানোর জন্য প্যাথলজিস্ট আছেন মাত্র দুজন। হাসপাতালে বিদ্যুৎবিভ্রাট সামাল দেওয়ার জন্য জেনারেটর রয়েছে তিনটি, যার মধ্যে দুটি সচল থাকলেও একটি নষ্ট।

ডা. হোসাইন আলীর বিশেষ বক্তব্য

হাসপাতালের এই সামগ্রিক সংকট, জনবল ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছেন হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডা. হোসাইন আলী। তিনি সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতার পাহাড় অনেক বড়, কিন্তু তার মধ্যেই আমরা সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট—বিগত এপ্রিল মাসেই আমাদের হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭ হাজার ৮৪৩ জন রোগী, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ছুটি পেয়েছেন ২৬০ জন। আমাদের প্রধান সমস্যা হলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং জনবল ও যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট। পাঁচ-ছয়টি আল্ট্রাসোনো এবং দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এটা সত্য। মাত্র ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে এই বিশাল হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দালালচক্র নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনবল বৃদ্ধি, নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত ও নতুন করে ক্যাজুয়ালিটি ডিপার্টমেন্ট চালুর জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। এই অবকাঠামোগত ও যন্ত্রপাতির সমস্যার সমাধান না হলে কেবল আন্তরিকতা দিয়ে এই বিশাল চাপ সামলানো সম্ভব নয়।’

দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

হাসপাতাল ঘিরে আরেকটি বড় অভিযোগ দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ও বহির্বিভাগকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি চক্র রোগীদের ফুসলিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পাইকগাছার আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন এসে বলল, বাইরে টেস্ট করাতে হবে। আমরা বুঝতে পারিনি, কারা আসল কর্মচারী আর কারা বাইরের লোক।’ নড়াইলের সুমাইয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের বলছিল, বাইরে গেলে দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। পরে বুঝলাম তারা দালাল।’

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে বাইরে থেকে রিপোর্ট বানিয়ে আনে। এতে রোগীরা বিভ্রান্ত হন এবং অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়েন।

অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক

সম্প্রতি হাসপাতালের পুরোনো আইসিইউ-সংলগ্ন স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ধোঁয়ায় পুরো ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী সরানোর সময় হুড়োহুড়িতে কয়রার নাসরিন নাহার নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়।

আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, ‘ধোঁয়ার মধ্যে রোগী সরাতে গিয়ে স্বজনরা নিজেরাই তাকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর তিনি মারা যান।’ ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজন নার্সসহ পাঁচজন আহত হন।

সংকটের মাঝেও শেষ আশ্রয়

এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিদিন শত শত দরিদ্র মানুষ এই হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালের আকাশচুম্বী ব্যয় বহন করতে না পারা সাধারণ মানুষের কাছে এখনো এটিই শেষ ভরসা।

দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের কাছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখনো জীবনের শেষ আশ্রয়। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থলই যদি অতিরিক্ত রোগীর চাপ, যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে জর্জরিত থাকে, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—‘চিকিৎসা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে আর কত ভোগান্তি পোহাতে হবে?’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন