হেলমেট পরে ক্লাসে জবির দুই শিক্ষার্থী, নেপথ্যে কী

প্রতিনিধি, জবি

হেলমেট পরে ক্লাসে জবির দুই শিক্ষার্থী, নেপথ্যে কী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার একদিন পরই নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে হেলমেট পরে ক্লাস করতে এসেছেন দুইজন শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং নয়ন হেলমেট পরে ক্লাসে অংশ নেন। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বুধবার সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালবেলা ক্লাস শুরুর আগে দুইজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। প্রথমে বিষয়টি অনেকেই মজা হিসেবে নিলেও পরে জানা যায়, এটি মূলত নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ।

শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “গতকাল আমাদের সহপাঠীদের ওপর ছাদের পলেস্তারা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আজ আমি ক্লাসে বসে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট পরে এসেছি, একই সঙ্গে এটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি চেষ্টা।”

তিনি আরও বলেন, “যদি ক্লাসরুমেই জীবন ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ? দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে।”

আরও এক শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, কালকে আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে অথচ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের ক্লাস পরীক্ষাও চলমান। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাস রুমে বসে ক্লাস পরীক্ষা দিতে শঙ্কা বোধ করায় হেলমেট পড়ে এক্সাম দিতে আসছি।

সহপাঠীদের অনেকেই তাঁর এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিথিল বলেন, “এটি হাস্যকর নয়, বরং আমাদের বাস্তবতার প্রতিফলন। আমরা সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এই বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “এই বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি এবং তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই সঙ্গে ১১৯, ২০, ২১ নম্বর কক্ষসমূহ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাই মিড ও ক্লাস পরীক্ষা চলমান রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “আমি যে রুমে বসে আছি সেটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, দায়িত্ববোধ থেকে এখনো অবস্থান করছি।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি। এখন সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...