সুইসাইড নোটে শিক্ষকদের অভিযুক্ত করে নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী

সুইসাইড নোটে শিক্ষকদের অভিযুক্ত করে নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম নিজ কক্ষে সুইসাইড নোট লিখে নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসে ওঠার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার সন্ধান চেয়ে জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নিখোঁজ মোহাইমিনুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার আবাসিক কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

সুইসাইড নোটে যা লেখা আছে

মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর তার আবাসিক হলের নিজ কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সঙ্গে একটি ঋণের তালিকাও তিনি রেখে গেছেন। সুইসাইড নোটে লেখা আছে, এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আমার হাতে অন্য কোনো অপশন নাই শুধু মৃত্যু ছাড়া। কারণ তারা আমাকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্যাম্পাসে বাবা-মার অবর্তমানে রানিং স্টুডেন্টদের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক হলো শিক্ষক। কিন্তু যারা নিজেরাই ভালো বাবা-মা হতে পারেনি, তারা আবার শিক্ষক। ৬ মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে। আমি কোনো নাটক/সিনেমা করছি না। আমার লাশ পেলে টুকরা টুকরা করে তাদেরকে ইকুয়ালি ভাগ করে দিও প্রিয় ক্লাসমেটরা। আমার কিছু ঋণ আছে, তা আরেকটা কাগজে লেখা আছে। আবার ঋণের থেকে বেশি টাকা আমি পাই বিভিন্ন জায়গায়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে মোহাইমিনুল হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে বিষয়টি জরুরিভাবে অবহিত করা হয়েছে। সুইসাইড নোটে বিভাগের অবহেলার বিষয়ে উল্লেখ থাকায় এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিমের (০১৭১৪০১২৩১৫) অথবা নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরীর (০১৭১২৬৭৪৫৫৭) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন