সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পিএসসি (বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন) সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত ১৬ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক হোল্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ প্রতিচ্ছবি।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া হয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরিণত হয়।
সমাবেশে বক্তারা পিএসসিসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হন। তারা ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, পিএসসি সংস্কার’, ‘চব্বিশের অঙ্গীকার, পিএসসি সংস্কার’, ‘পিএসসি নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’- এই ধরনের স্লোগান দেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, “গত ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আওয়ামী লীগকরণ করা হয়েছে। আজও আমরা দেখি, আবার একটি দল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি চাকরিতে কোন দলের বা মতের সুপারিশে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। মতাদর্শের কারণে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিয়া রেহনুমা বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ এই দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোগুলোকে ঘুণে ধরা কাঠামোতে পরিণত করেছে। এর মূল কারণ হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক দখলদারি প্রতিষ্ঠা করা।”
তিনি সামনের দিনে রাজনৈতিক দলগুলোকে এই ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের মধ্যে ঐক্য তৈরি করতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ আর এই অবৈধ রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারে।”
সমাবেশে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থী ও ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার্থী সিরাজুল সালেহীন।
দাবিগুলো হলো: ১. পিএসসি ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সুপারিশ ও নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। ২. পিএসসি-সহ অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য একটি স্বতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে।
সালেহীন বলেন, “এই দাবি মানা না হলে আমরা সচিবালয় ঘেরাও করবো। প্রয়োজনে অবরোধ, ব্লকেডসহ কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবো। এই লড়াই সকল সচেতন নাগরিকের—একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লড়াই।”
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন যতক্ষণ না পর্যন্ত পিএসসি ও রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে রাজনৈতিক প্রভাব সরিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

