আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আট বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা

স্টাফ রিপোর্টার

আট বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা

বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় একযোগে আটটি পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। একইদিনে পরিবর্তন করা হয়েছে উচ্চ শিক্ষার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানও। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তন করা ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্যদের মেয়াদ মাত্র দেড় বছর না যেতেই আবার অনেকটা গণহারে পরিবর্তন হওয়ায় বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের আগেই নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ করা নিয়েও চলছে বিতর্ক। দলীয় লোকদের বসাতেই কোনো কারণ ছাড়া বর্তমান ভিসিদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

সূত্রমতে, গত সোমবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগের কথা জানান। তবে সে সময় এসব নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলছিল। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনগুলো গতকাল দুপুরে প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া প্রথমে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনের কথা বলা হলেও পরে আরেকটি যুক্ত হয়ে আটটিতে দাঁড়িয়েছে। নতুন ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগের ভিসিদের অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসব উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন, একাডেমিক যোগ্যতা, পিএইচডি, পোস্ট-ডক ও সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদেরই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান চূড়ান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (কুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল ফোরকান। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। আর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ্ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এ অধ্যাপক এর আগে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে কর্মরত ছিলেন।

একযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের বিষয়ে কড়া সমালোচনা করেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সোমবার সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করা হয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের কোনো ধরনের যোগ্যতার ঘাটতির আছে, এমন কারণ বোঝাতে পারলে আমরা মেনে নিতাম। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক যাচাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে পরিবর্তন হবে- এতে ভিন্নমত নেই। কিন্তু পদত্যাগ করিয়ে, যিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে পোস্টারিং, ক্যাম্পেইন ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন, তাকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দলান্ধ লোকদের পোস্টিং দিয়ে খুশি করার ব্যবস্থা নিয়েছে, যেটা নিন্দনীয় এবং জুলাইয়ের স্প্রিট-মেধার অবমাননা।

তিনি আরো বলেন, মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ হবে- এটা আমরা চাই। কিন্তু দলীয় পরিচিতি আর দলীয় সমর্থক হওয়া, যারা দলীয় প্রতিনিধিত্ব করেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য পোস্টারিং করেছেন, এসব লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ করে সরকার জুলাই স্প্রিটের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছে বলে মনে করি।

ঢাবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘কোটা না, মেধা? স্লোগান দিয়ে প্রাণ দেওয়া জাতির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন ‘লাগারে লাগা ধান লাগা’ স্লোগান দিয়ে। কি ঘৃণ্য!’

এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। কিছুক্ষণ পরে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদকে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাছাড়া তিনি শারীরিক অবস্থার কারণেই পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।

এসব বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষাবিদ জানান, যেভাবে ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ভিসিদের পরিবর্তন করা হচ্ছে- এটা আশঙ্কাজনক। নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের কাজ আমরা আশা করিনি। বর্তমান সরকার আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের পথেই হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। এটা দুঃখজনক।

তিনি আরো বলেন, এসব বিষয়ে বিরোধী দল এখন সংসদে কথা বলতে পারে। এটা বিরোধী দলের কাজ। জনগণ তাদের সেই কাজ দেখতে চায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন