খুবির নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল রাখার অভিযোগ, ক্যান্টিনকর্মী আটক

খুবির নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল রাখার অভিযোগ, ক্যান্টিনকর্মী আটক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (পিতা: আসাদুজ্জামান) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন